দ্বাদশ শ্রেণির বইয়ে নেই বাবরি ধ্বংসের কথা! আজব 'সাফাই' NCERT-র প্রধানের
সাম্প্রতিক সময়ে ফের একবার পাঠ্যক্রম সংশোধন করেছে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং। যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিতর্কে ইতি টানতে গিয়ে আজব সাফাই
দিলেন সংস্থার প্রধান দীনেশ প্রসাদ সাকলানি।
প্রসঙ্গত, এনসিইআরটির দ্বাদশ শ্রেণির পলিটিক্যাল সায়েন্স বই থেকে বাবরি মসজিদ ধ্বংস আর গুজরাত দাঙ্গার কথা বাদ দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে দীনেশ প্রসাদ সাকলানি বলেছেন, তারা হিংসা এবং হতাশাগ্রস্ত নাগরিক নয়, ইতিবাচক নাগরিক তৈরি করতে চান।

- ইতিবাচক নাগরিক তৈরির চেষ্টা
তিনি বলেছেন, কেন আমরা স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে দাঙ্গা সম্পর্কে শেখাবো। গুজরাত দাঙ্গা কিংবা বাবরি ধ্বংসের বিষয় নিয়ে তিনি বলেছেন, এনসিইআরটি ইতিবাচক নাগরিক তৈরি করতে চায়। এটাই পাঠ্যপুস্তকের উদ্দেশ্য। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, পাঠ্যপুস্তকগুলিতে পরিবর্তন বার্ষিক সংশোধনের অংশ। এনসিইআরটি জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে স্কুলের পাঠ্যপুস্তকগুলির সংশোধন করছে। তিনি প্রশ্ন করেছেন, আমাদের কি ছোট বাচ্চাদের দাঙ্গা সম্পর্কে শেখানো উচিত?
- গেরুয়াকরণ অস্বীকার
পাঠ্যপুস্তকের গেরুয়াকরণের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে এনসিইআরটির প্রধান বলেছেন, যদি কিছু অপ্রাসঙ্গিক হয়ে থাকে, তাহলে তা পরিবর্তন করতে হবে। তিনি পাঠ্যপুস্তকের গেরুয়াকরণের কথা অস্বীকার করে বলেছেন, তারা ছাত্রছাত্রীদের ইতিহাসের শিক্ষা দেন, যাতে তারা ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারে। এটাকে যুদ্ধক্ষেত্র বানানোর জন্য নয়।
তিনি বলেছেন, যখন বই প্রকাশ করা হয়, তখন কোনও মতাদর্শ অনুসরণ করা হয় না। বিশেষজ্ঞরা যা ঠিক মনে করেন, তাই করেন।
দীনেশ প্রসাদ সাকলানি ২০২২-এ এনসিইআরটির ডিরেক্টরের দায়িত্ব নেওয়ার আগে এইচএনবি গাড়োয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন ইতিহাস বিভাগের প্রধান ছিলেন।
- পাঠ্যপুস্তকে কী কী পরিবর্তন হয়েছে
দ্বাদশ শ্রেণির পলিটিক্যাল সায়েন্স বইয়ে বাবরি মসজিদ সম্পর্কিত তথ্য সরিয়ে অযোধ্যা বিবাদকে অযোধ্যা ইস্যু হিসেবে লেখা হয়েছে। আর বাবরি মসজিদের নামের পরিবর্ততে তিন গম্বুজের কাঠানো লেখা হয়েছে। এছাড়া অযোধ্যা বিষয়ক অধ্যায়কে চার পৃষ্ঠা থেকে দুই পৃষ্ঠা করা হয়েছে।
নতুন বইতে সুপ্রিম কের্টের ১৯৯৪ সালের সিদ্ধান্ত ২০১৯-এর নতুন সিদ্ধান্ত দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে।
বইয়ে মুঘল সম্রাট হুমায়ুন, শাহজাহান, আকবর, জাহাঙ্গির ও অওরঙ্গজেবের কৃতিত্বের বিবরণ দিয়ে থাকা দুই পাতার টেবিলও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
এই প্রথম বইয়ে রাম জন্মভূমির উল্লেখ আনা হয়েছে। সেখানে ভগবান রাম পরিবরতেন করে শ্রী রাম করা হয়েছে। এটি ২০১৪ সাল থেকে এনসিইআরটির বইয়ের চতুর্থ সংশোধন।












Click it and Unblock the Notifications