বিদেশী জঙ্গিদের জড়িত থাকার সম্ভাবনা, একে৪৭ এর ব্যবহার, পহেলগাঁওয়ের নৃশংসতায় চাঞ্চল্য
জম্মু ও কাশ্মীরের মনোরম পর্যটন কেন্দ্র পহেলগাঁও-এ সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নৃশংস সন্ত্রাসী হামলায় সমগ্র অঞ্চল স্তম্ভিত। নিরাপত্তা কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো এই সুপরিকল্পিত আক্রমণে ২৬ জন নিহত এবং ১৭ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। অতীতের হিট-অ্যান্ড-রান হামলার বিপরীতে, এই ঘটনাটি ছিল ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত হত্যালীলা। যেখানে সন্ত্রাসীরা দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করে কেবল পুরুষদেরই বেছে বেছে হত্যা করে।
উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলাকারীরা অত্যাধুনিক একে৪৭ (AK-47) রাইফেল ব্যবহার করেছিল, যার প্রমাণস্বরূপ ঘটনাস্থল থেকে ৭.৬২ মিমি বুলেটের শেল উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কারের (OGW) সহায়তায় প্রায় ৫ জন প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী এই নারকীয় কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অনুমান। এমনি এই হামলার পর সন্ত্রাসীদের পালাতে এবং আত্মগোপন করতে সাহায্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই হামলার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকটি হল, সন্ত্রাসীদের দীর্ঘ সময় ধরে ঘটনাস্থলে থাকা এবং বিশেষভাবে পুরুষদের টার্গেট করা। যদিও এই মর্মান্তিক ঘটনায় কিছু মহিলাও আহত হয়েছেন। তবে সরকারি প্রতিবেদন অনুসারে, কেউই গুলিতে প্রাণ হারাননি। কিন্তু এই ঘটনায় স্পষ্টতই একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কাজ করেছে, যা তদন্তকারী সংস্থা এবং পুলিশকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।
তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে, সংস্থা ও পুলিশ সন্দেহ করছে যে হামলাকারীরা পুঞ্চ রুট ব্যবহার করে পহেলগাঁওতে প্রবেশ করে। সড়কপথে প্রায় ৭ ঘণ্টার এই দীর্ঘ যাত্রায় সন্ত্রাসীরা হামলা চালানোর আগে কোথাও বিশ্রাম নিয়ে থাকতে পারে। সঙ্গে তদন্তকারীরা বিদেশী সন্ত্রাসীদের (FTs) জড়িত থাকার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন বলে খবর।
একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার মতে, স্থানীয় ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের লজিস্টিক সহায়তায় বিদেশী সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সন্ত্রাসীরা ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসেছিল এবং ঘটনাস্থলে পুরুষদের লক্ষ্য় করে হত্যা করেছে। এমনও আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, সন্ত্রাসীরা অথবা তাদের কোনও সহযোগী এই ভয়াবহ হামলার ভিডিও করা হয়েছে।
পহেলগাঁও-এর শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশ প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটকের ঢল নামায়। সবুজ উপত্যকা, ঘন পাইন বন এবং তুষারাবৃত পাহাড়ের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এখানকার প্রধান আকর্ষণ।
এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বহু বলিউড সিনেমার শুটিং লোকেশন হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। তবে, কাশ্মীরে পর্যটন মরশুমের শুরুতে এই আকস্মিক হামলা নিঃসন্দেহে পর্যটন শিল্পে বড় ধাক্কা দিতে চলেছে।
পর্যটনের পাশাপাশি, পহেলগাঁও-এর গুরুত্ব অমরনাথ যাত্রার জন্যও অপরিসীম। এটি অমরনাথ গুহায় যাওয়া তীর্থযাত্রীদের জন্য একটি ঐতিহ্যবাহী বেস ক্যাম্প হিসেবে কাজ করে। এই সময় এখানে প্রচুর নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন থাকে। তবে পহেলগাঁও-এর এই নারকীয় হামলার ফলে শুধু পর্যটন নয়, আসন্ন অমরনাথ যাত্রাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হতে পারে। এই ঘটনা কাশ্মীরের শান্তিকামী মানুষের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications