এই রায়ের উপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষৎ, অযোধ্যা মামলায় রায়ের আগে সুপ্রিমকোর্টকে মুসলিম পক্ষের আবেদন
এই রায়ের উপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষৎ, অযোধ্যা মামলায় রায়দানের আগে সুপ্রিমকোর্টকে মুসলিম পক্ষের আবেদন
দেশের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রাখবেন। অযোধ্যা মামলায় সুপ্রিমকোর্টের প্রতি এমনই আবেদন জানিয়েছে মুসলিম পক্ষের মামলাকারীরা। তাদের দাবি হল, বিতর্কিত অযোধ্যা বিবাদ মামলার উপর নির্ভর করে থাকবে দেশের বহু-ধর্মীয় এবং সব সংস্কৃতির মূল্যবোধ। শনিবার এই মামলার দায়িত্বে থাকা পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চকে বন্ধ খামে দেওয়া এক চিঠিতে এই আবেদন করা হয় বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে হিন্দু পক্ষের আইনজীবীর আপত্তি থাকায় বন্ধ খামের লেখা বিস্তারিত ভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়।

মুসলিম পক্ষের আবেদন
জমা করা চিঠিতে মুসলিম পক্ষের মামলাকারীরা বলে, সুপ্রিমকোর্ট এই মামলায় যেই রায়ই ঘোষণা করুক তা পরবর্তী প্রজন্মের উপর প্রভাব ফেলবে। এই রায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপরও প্রভাব ফেলবে বলে দাবি করে তারা। চিঠিতে লেখা, "১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি দেশ যখন গণতন্ত্রে পরিণত হয় তখন দেশের জনগণ ভারতীয় সংবিধানের উপর আস্থা রাখতে শুরু করে। এখন যেহেতু শীর্ষ আদালতের বিচারপতিদের দেশের সর্ব সত্রের মানুষের উপর প্রভাব আছে, তখন এই ঐতিহাসিক রায় এমন হওয়া উচিৎ যাতে আজও সংবিধানের উপর মানুষের আস্থা বজায় থাকে।" চিঠিটি মুসলিম পক্ষের পাঁচ আইনজীবী এজাজ মাকবুল, শাকিল আহমেদ সঈদ, এমআর শামশাদ, ইরশাদ আহমেদ ও ফুজাইল আউবি সই করেন।

হিন্দুপক্ষের আপত্তিতে চিঠির বক্তব্যের খোলসা
রাম লালা বিরাজমান, হিন্দু মহাসভা ও অন্যান্য হিন্দু সংস্থাগুলি মুসলিম পক্ষের এইভাবে বন্ধ খামে চিঠি দেওয়া নিয়ে আপত্তি তোলে। তাদের পক্ষে থেকে আইনজীবী ভক্তি বর্ধন সিং বলেন, "এই ভাবে বন্ধ খামে কোনও আবেদন জানানো আইনসম্মত নয়। এটা করলে অপর পক্ষকে অন্ধকারে রাখা হয়। এতে মামলার ক্ষতি হয় এবং গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়।" এরপরই চিঠির লেখাটি প্রকাশ করা হয়।

রায় ঘোষণার অপেক্ষায়
২০১০ সালের এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অযোধ্যা সংক্রান্ত ১৪টি মামলার আবেদন জানানো হয় শীর্ষ আদালতে। সেই আবেদনগুলির যৌথ শুনানি গত দেড় মাস ধরে চলে শীর্ষ আদালতে। এদিকে আগামী মাসের ১৭ তারিখ প্রধান বিচারপতি হিসাবে মেয়াদ শেষ হচ্ছে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের। এই মামলা শুরু হতেই প্রধান বিচারপতি জানিয়েছিলেন, তাঁর অবসরের আগে এই মামলার নিস্পত্তি করে যাবেন তিনি। সেই পথেই এগোচ্ছে শীর্ষ আদালত।

মামলার সংবেদশীলতা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ
অযোধ্যা মামলা নিয়ে খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমগুলিকে বিশেষ উপদেশ জারি করে নিউজ ব্রডকাস্টিং স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি। সেখানে বলে হয়, কোনও ভাবে আদালতের কার্যপদ্ধতি নিয়ে জল্পনা করা যআবে না। শুনানি ও মামলা সম্পর্কিত শোনা যেকোনও তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে হবে। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের কোনও ফুটেজ বা ছবি ব্যবহার করা যাবে না। কোনও পক্ষের কোনও উল্লাস দেখানো যাবে না। পাশাপাশি চ্যানেলগুলিকে নিশ্চিত করতে বলা হয় যাতে কোনও বিতর্ক অনুষ্ঠানে কট্টরপন্থী মনোভাবের প্রচার না করা হয়। ভারতের অন্যতম সংবেদনশীল এই মামলাকে ঘিরে যাতে কোনও হিংসা না ছড়ায় সেই দিকে তাকিয়েই এই মামলা সংক্রান্ত খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে বিশেষ উপদেশ জারি করা হয়।
এদিকে অযোধ্যা মামলা ঘিরে কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে তৎপর হয়েছে উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার। অযোধ্যায় ইতিমধ্যেই ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। সেখানে আপাতত ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকার কথা জানিয়েছে সরকার।












Click it and Unblock the Notifications