Pahalgam Terror Attack: পহেলগাঁওয়ের আশেপাশে লুকিয়ে জঙ্গিরা, চলছে চিরুনি তল্লাশি, বাড়তি সতর্কতা
সরকারি সূত্রে এবার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল। সূত্রের খবর, জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের আশেপাশে এখনও ৪-৬ জন সন্ত্রাসীর লুকিয়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। পর্যটকদের উপর এই ধরনের সুপরিকল্পিত হামলা নজিরবিহীন। এই হামলা ২০০২ সালের অক্ষরধাম মন্দিরে তীর্থযাত্রীদের উপর হামলার মতোই অপ্রত্যাশিত। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা প্রোটোকলের সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার বিকেলে পহেলগাঁওয়ের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যাদের অধিকাংশই ছিলেন বিভিন্ন রাজ্য থেকে ছুটি কাটাতে আসা সাধারণ মানুষ। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর এটিই সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা। নিহতদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নেপালের দুই বিদেশী নাগরিক এবং দুজন স্থানীয় বাসিন্দা রয়েছেন বলে খবর।

সরকারি সূত্র আরও জানিয়েছে, এই নারকীয় হামলায় ৮-১০ জন সন্ত্রাসী জড়িত থাকতে পারে। যাদের মধ্যে ৫-৭ জন সম্ভবত পাকিস্তানের নাগরিক। এদিকে এই হামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর সৌদি আরব সফর সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত নয়াদিল্লি ফিরে এসেছেন। বিমানবন্দরে অবতরণের পরই তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রির সাথে জরুরি বৈঠকে পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স-এ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সকল প্রকার সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
আজ, বুধবার সকাল ১১টায় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিএস) একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে বৈঠকে এই হামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে কাশ্মীরে আটকে পড়া পর্যটকদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো অতিরিক্ত ফ্লাইটেরও ব্যবস্থা করেছে বলে জানা যায়।
এদিকে, নিষিদ্ধ পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বার একটি ছায়া গোষ্ঠী দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা জম্মুর কিশতওয়ার থেকে দক্ষিণ কাশ্মীরের কোকেরনাগ হয়ে বৈসরনে পৌঁছে থাকতে পারে। পর্যটকদের উপর এই আকস্মিক ও ভয়াবহ হামলায় সমগ্র দেশ স্তম্ভিত। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications