Pahalgam Terror Attack: কীভাবে পহেলগাঁওয়ের হামলার ছক সাজিয়েছিল সন্ত্রাসীরা, কী তথ্য উঠে এল তদন্তে
কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের ঘটনায় উত্তপ্ত দেশ। মঙ্গলবার ভূস্বর্গের বুকে যেন শান্ত পরিবেশ হয়ে উঠল অশান্ত। সন্ত্রাসীদের গুলির আওয়াজে কেঁপে ওঠে এই সুন্দর মনোরম উপত্যকা। নিমেষে জঙ্গিদের গুলির কাছে হার মানতে হয় তরতাজা পর্যটকদের। যারা প্রিয়জনকে হারিয়ে আজ বাক্রুদ্ধ।
এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জনেরও বেশি, আহতদের সংখ্যাও অনেক। এই ঘটনার কিন্তু কিন্তু ইতিমধ্যে তদন্তও শুরু হয়ে গিয়েছে। আর যেখান থেকে উঠে এসেছে অনেক আপডেটও।

বুধবার পহেলগাঁওয়ের ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে শীর্ষ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ও পরিকল্পনা করেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে জঙ্গিরা। মঙ্গলবার পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় ভয়াবহ হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৬ জন। যেখানে পর্যটকের সংখ্যাই বেশি। তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে । ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর থেকে এই জায়গায় সব থেকে বেশি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, পর্যটকদের উপর যে হামলা চালানো হয়েছে, তাতে কিন্তু পাকিস্তানি ও স্থানীয় কাশ্মীরি উভয় সন্ত্রাসীরাই রয়েছে। সন্ত্রাসীদের সংখ্যা ৬ জন বলেই মনে করা হচ্ছে। আর তদের স্থানীয়রাই সাহায্য করেছিল বলে মনে করা হচ্ছে! এই হামলা চালানোর আগে তারা কিন্তু ভালোভাবে জায়গা পর্যবেক্ষণ করেছিল।
তদন্তে নেমে তদন্তকারী মনে করছেন, সন্ত্রাসীরা বৈসরন উপত্যকাকেই বেছে নিয়েছিল। তার কারণ, এই এলাকায় কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। পহেলগাঁও থেকে বৈসরনের দূরত্ব মাত্র ৬.৫ কিমি দূরে। এই জায়গায় যেতে ট্রাক, ঘোড়ায় চড়ে কিংবা পায়ে হেঁটেই এই যাওয়া যায়। আর কারণে নিহতের সম্ভাবনাও বেড়েছে। আর এই ঘটনায় বডি ক্যামেরাই ছিল জঙ্গিদের সঙ্গী। তারা বিশেষ করে তাদের হেলমেটে এই ক্যামেরা লাগিয়েছিল।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, তিনজন সন্ত্রাসী পর্যটকেদের একত্রিত করে ও মহিলা ও পুরুষকে আলাদা করে। তারপর তাঁদের পরিচয় জানতে চায়। আর তারপরেই জঙ্গিরা খুব কাছ থেকে একে ৪৭ রাইফেল দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। আবার কিছুজন দূর থেকেও গুলি করতে শুরু করে। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান অনেকেই, আবার প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণেও অনেকে মারা যান।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই ঘটনা ঘটাবার আগে জঙ্গিরা ঘন জঙ্গলেও তাদের আস্তানা তৈরি করেছিল। স্থানীয় সন্ত্রাসী ও স্লিপার এজেন্টদের সাহায্যেই তারা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এএনআই থেকে জানা গিয়েছে, এই ঘটনাস্থল থেকে গুলির আবরণ ও মাটির নমুনা নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া সংগ্রহ করা হচ্ছে ফরেনসিক নানান প্রমাণ।
ইতিমধ্যে কিন্তু পুলিশ টেলিকম কোম্পানিগুলির কাছ থেকে এলাকায় সক্রিয় মোবাইল নম্বর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইছে। তাছাড়াও বৈসরণের কাছাকাছি বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে।
নিহতদের দেহ শ্রীনগরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যেখানে তাঁদের পুষ্পস্তবক দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, উপ-রাজ্যপাল মনোজ সিনহা, মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও সেনাবাহিনী, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications