Pahalgam: পহেলগাঁও হামলায় জঙ্গিদের শরীরে ছিল বডি ক্যামেরা, সেই ক্যামেরার এবার খোঁজ চালাচ্ছে এনআইএ
২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও-এ ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর তদন্তে নেমে বড়সড় তথ্য হাতে পেল জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। সূত্রের খবর, হামলার সময় সন্ত্রাসীরা নিজেদের শরীরে 'বডি ক্যামেরা' লাগিয়ে পুরো গণহত্যা রেকর্ড করেছিল।
এনআইএ ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি নথিভুক্ত করেছে এবং হামলার দিন থেকেই তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় এনআইএ-র একাধিক দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বৈসরান ও তার আশপাশের এলাকা ঘিরে প্রমাণ সংগ্রহ করছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদেও উঠে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য।

এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, হামলায় প্রায় ৫ থেকে ৭ জন সন্ত্রাসী অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে অন্তত দুইজন পাকিস্তানে প্রশিক্ষিত স্থানীয় সন্ত্রাসী ছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই তিন পাকিস্তানি সন্ত্রাসী - আসিফ ফৌজি, সুলেমান শাহ এবং আবু তালহার স্কেচ প্রকাশ করেছে।
এক শীর্ষ এনআইএ কর্মকর্তা জানান, সংস্থার আইজি, ডিআইজি এবং এসপির নেতৃত্বে তদন্তকারী দল প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করছে। হামলায় নিহতদের পরিবারে গিয়ে গিয়ে এনআইএ সদস্যরা তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা শুনছে। এই প্রত্যক্ষদর্শীরাই জানিয়েছেন, হামলাকারীরা তাদের দেহে বডি ক্যামেরা বেঁধে গোটা হত্যালীলা রেকর্ড করছিল।
উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিলের এই ভয়াবহ হামলায় এখনও পর্যন্ত ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর এটি ছিল জম্মু ও কাশ্মীরে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা। হামলার পর থেকেই পহেলগাঁও ও আশপাশের এলাকায় চূড়ান্ত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে এসেছে বলে জানাচ্ছে এনআইএ।
সূত্রের খবর, এই বডি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করতে পারলে সন্ত্রাসীদের পরিকল্পনা, তাদের পরিচয় এবং পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে সংযোগ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসতে পারে। ফলে এই ফুটেজ এখন এনআইএ-র তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে।
এনআইএ ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। গোটা উপত্যকায় তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সাথে সেনাবাহিনীও রোজ সার্চ অপারেশন চালাচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িত কোনও লিঙ্ক পেলেই বা কারোর জড়িত থাকার সন্ধান পেলেই সেখানে অভিযান চালাচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
দেশজুড়ে এই হামলা নিয়ে চরম শোক ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, এই হামলার জন্য যারা দায়ী, তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে এবং ভারত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার লড়াই অব্যাহত রাখবে।












Click it and Unblock the Notifications