Pahalgam Terror Attack: কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলা, হত ২, গুরুতর আহত ১০ পর্যটক
না সেনাবাহিনী না নিরাপত্তারক্ষী, এবার নিশানায় সাধারণ নিরীহ মানুষ। অমরনাথ যাত্রা শুরু হওয়ার আগেই কাশ্মীরে জঙ্গি হামলা। মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার জনপ্রিয় পর্যটন শহর পহেলগাঁও-এ সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় কমপক্ষে ১২ জন পর্যটক আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। যার মধ্যে ২ জন হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং বাকি ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলাটি ঘটে একটি ব্যস্ত পর্যটন কেন্দ্রে, যেখানে স্থানীয় ও বহিরাগত পর্যটকদের ব্যাপক ভিড় ছিল।সেনা কর্মকর্তারাও ঘটনা সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। এখনও পর্যন্ত, সন্ত্রাসবাদীদের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি বিনিময়ের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। আরও বিস্তারিত জানার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের মতে, সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার আগে প্রায় ৩ থেকে ৫ মিনিট ধরে গুলি চালিয়েছিল। প্রথমে জানা যায় পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হয়েছেন, পড়ে সংখ্যাটা বেড়ে ১২ হয়। যার মধ্যে ২ জনের অবস্থা প্রথম থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল। তাঁদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই তারা সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাকি আহতদের অনন্তনাগ জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকায় এবং আরও বিশদ তথ্য সামনে আসার সাথে সাথে আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী ও চিকিৎসা দল ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভিক্টর ফোর্স, স্পেশাল ফোর্সেস, জেকেপি এসওজি এবং সিআরপিএফ ১১৬ ব্যাটালিয়নের যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে ঘটনাটি পহেলগাঁও-ডোডা অক্ষ বরাবর ঘটেছে।
ইতিমধ্যেই হাতে এসেছে আহতদের এক তালিকা। যেখানে নাম রয়েছে ৮ জনের। বাকিদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। যার মধ্যে শুধু গুজরাতের বাসিন্দা নেই, আছে কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, ওড়িশার বাসিন্দাও। সেই তালিকাটি হল এই রকম -
বিনো ভাট, গুজরাটের বাসিন্দা
মানিক পাতিল
রিনো পান্ডে
এস. বালাচন্দ্রু, মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা
ডঃ পরমেশ্বর
অভিজবন রাও, কর্ণাটকের বাসিন্দা
সন্তু, তামিলনাড়ুর বাসিন্দা
সাহসী কুমারী, ওড়িশার বাসিন্দা
একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং সেনাবাহিনী পরিস্থিতির পূর্ণ বিশ্লেষণে কাজ করছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁদের চিকিৎসা চলছে। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
এই হামলার মাত্র কয়েকদিন আগেই, ১৪ এপ্রিল কিশতওয়ারের ছাতরু বনাঞ্চলে প্রায় ২৫ দিন ধরে চলা এক তীব্র সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী একটি সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী ঘাঁটি আবিষ্কার করে। পাকিস্তান-ভিত্তিক জৈশ-ই-মহম্মদ (জেইএম) জঙ্গিদের ব্যবহৃত এই আস্তানাটি ছিল আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত।
অস্ত্র, রেশন, সৌর প্যানেল, ওয়াই-ফাই সংযোগ, জিপিএস ডিভাইস এমনকি একটি গোপন ভূগর্ভস্থ পালানোর পথও ওই ঘাঁটিতে পাওয়া যায়। এতে বোঝা যায় যে সন্ত্রাসীরা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে এবং স্থানীয় বনাঞ্চলকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে।
তারও কিছুদিন আগে কাশ্মীর নিয়ে মুখ খুলেছিলেন পাকিস্তানের সেনা প্রধান আসিম মুনির। কাশ্মীরকে মানব শরীরের জুগুলার ভেইনের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। কাশ্মীরের পাশে পাক-সেনা থাকবে বলেও মন্তব্য করেছিলেন। ওই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছিল ভারত। তার কয়েকদিন পরেই এই হামলা, যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, পহেলগাঁও বরাবরই কাশ্মীর উপত্যকার এক অন্যতম নিরাপদ এবং জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই ঘটনার ফলে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।
ঘটনার তদন্ত চলছে এবং হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে সেনা ও পুলিশ বাহিনী। প্রশাসন জনগণকে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছে এবং যে কোনও ধরনের সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার অনুরোধ জানিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications