লালকেল্লা ও চাঁদনি চক ঘিরে জঙ্গি হানার আশঙ্কা, রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা
রাজধানী দিল্লিতে ফের জঙ্গি হামলার সতর্কবার্তা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর ই তইবা পুরনো দিল্লির ব্যস্ত ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী এলাকাগুলিকে নিশানা করার ছক কষছে। বিশেষ করে লাল কেল্লা সংলগ্ন এলাকা ও ঘনবসতিপূর্ণ চাঁদনি চকের মন্দির চত্বরগুলিকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গোয়েন্দা নোটে আশঙ্কা করা হয়েছে, জঙ্গিরা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। সাম্প্রতিক এক ঘটনার প্রেক্ষিতে এই ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি মসজিদে বিস্ফোরণের পর প্রতিশোধমূলক হামলার পরিকল্পনা করা হতে পারে বলে ধারণা গোয়েন্দাদের। শুধু দিল্লিই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরগুলিও সম্ভাব্য টার্গেটের তালিকায় থাকতে পারে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

সতর্কবার্তার জেরে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই তৎপরতা বাড়িয়েছে। পুরনো দিল্লির স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যানবাহন তল্লাশি জোরদার হয়েছে, ধর্মীয় স্থান ও পর্যটনকেন্দ্রের আশপাশে অ্যান্টি স্যাবোটাজ চেকিং শুরু হয়েছে। গোটা এলাকাজুড়ে সিসিটিভি নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।
এই সতর্কতা জারি হল গত বছরের ১০ নভেম্বরের ভয়াবহ গাড়ি-বোমা বিস্ফোরণের প্রায় তিন মাস পর। সেদিন লাল কেল্লার মেট্রো স্টেশনের কাছে বিস্ফোরকভর্তি একটি হুন্ডাই i20 গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়, আহত হন ২০ জনের বেশি। আগুনে পুড়ে যায় আশপাশের একাধিক গাড়ি। তদন্তে জানা যায়, বিস্ফোরণে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ভিত্তিক বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল।
তদন্তে গাড়িটির চালক হিসেবে চিহ্নিত হন উমর মহম্মদ ওরফে উমর উন নবী, যিনি ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ব বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের ডিএনএ পরীক্ষায় বিস্ফোরণের সময় তাঁর গাড়ির ভিতরে উপস্থিতির প্রমাণ মেলে। তদন্তকারীরা জানান, হরিয়ানা ভিত্তিক একটি বৃহত্তর জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র ছিল।
টেলিভিশন সূত্রে জানা যায়, ফরিদাবাদে প্রায় ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধারের পর ও ডা. মুজাম্মিল ও ডা. আদিল রাঠোর সহ একাধিক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের পর চাপ বাড়তে থাকায় লালকেল্লার কাছে গাড়িটি আগেভাগেই বিস্ফোরিত করা হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লি কার্যত হাই অ্যালার্টে। নিরাপত্তা বাহিনী মনে করছে, ভিড়ভাট্টা ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন এলাকাগুলিকে নিশানা করে আতঙ্ক ছড়ানোই জঙ্গিদের উদ্দেশ্য হতে পারে। তাই উৎসবের মরশুম সামনে রেখে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কড়া করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি ও সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানোর আবেদন জানানো হয়েছে। রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications