দুটি ট্রেনের সংঘর্ষ! ভয়াবহ এই ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ৬০, ঠিক কী ঘটেছিল টানেলের ভেতর?

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার বিষ্ণুগড়-পিপলকোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পিপলকোটি টানেলের ভেতরে মঙ্গলবার গভীর রাতে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে। টানেলের ভিতরে চলাচল করা দুটি লোকো ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। আহত হন প্রায় ৬০ জন শ্রমিক। দুর্ঘটনায় সময় দুটো ট্রেন মিলিয়ে ১০৯ জন শ্রমিক ছিলেন। ঘটনাটি ঘটেছে শিফট বদলের সময়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে যে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি ট্রেন পিছন দিক থেকে অন্য ট্রেনটিকে জোরে ধাক্কা মারে। টানেলের যে অংশে দুর্ঘটনাটি ঘটে, সেখানে আলো খুবই কম ছিল। আচমকা ধাক্কার কারণে অনেক শ্রমিক ভারসাম্য হারিয়ে ট্রেনের ভিতরেই পড়ে যান। কয়েকজন আবার সিট থেকে ছিটকে গিয়ে গুরুতর ভাবে আঘাত পান।

সংঘর্ষের পর টানেলের ভিতরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অন্ধকারের মধ্যে অনেকেই বুঝে উঠতে পারছিলেন না যে তাঁরা কীভাবে বাইরে বেরোবেন। চারদিকে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হয়, কিছুক্ষণের মধ্যে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

দুর্ঘটনাটির খবর পেয়েই প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের দল তাড়াতাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। আহত শ্রমিকদের অ্যাম্বুলেন্স এবং অন্যান্য যানবাহনের সাহায্যে কাছাকাছি বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

গোপেশ্বর জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, আহতদের মধ্যে বেশিরভাগেরই চোট তুলনামূলক ভাবে কম। তবে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর হওয়ার কারণে তাঁদের বিশেষভাবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। বর্তমানে গোপেশ্বর জেলা হাসপাতালে ৪২ জন শ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। পাশাপাশি পিপালকোটির বিবেকানন্দ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে আরও ১৭ জন শ্রমিককে।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরে জেলা শাসক গৌরব কুমার এবং পুলিশ সুপার সুরজিৎ সিং পনওয়ার গোপেশ্বর জেলা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।

পুলিশ সুপার সুরজিৎ সিং পনওয়ার জানিয়েছেন যে, জেলা হাসপাতালে ভর্তি ৪২ জনের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জনের হাড় ভেঙে গেছে। পিপালকোটির হাসপাতালে আরও ১৭ জন ভর্তি রয়েছেন। প্রকল্প এলাকায় ট্রেন দুটির সংঘর্ষের পর থেকেই প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনী পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। দুটো হাসপাতালেই পর্যাপ্ত পুলিশ এবং প্রশাসনিক আধিকারিক মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে যে, আহত শ্রমিকদের মধ্যে অধিকাংশই ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরে তাঁদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আহতদের চিকিৎসায় কোনওরকম গাফিলতি করা হবে না। পাশাপাশি, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+