এলাহাবাদ হাইকোর্টের ‘ধর্ষণ’ সংক্রান্ত বিতর্কিত রায় স্থগিত করল সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্ট বুধবার এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিতর্কিত আদেশ আপাতকালীনের জন্যে স্থগিত করে দিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছিল যে কোনও এক কিশোরীর গোপনাঙ্গ চেপে ধরা বা পায়জামার দড়ি ছিঁড়ে ফেলা ধর্ষণের চেষ্টা নয়। আদালতের মতে, ধর্ষণের প্রচেষ্টার অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে প্রসিকিউশনকে "প্রস্তুতির পর্যায়" অতিক্রম করতে হবে।
'উই দ্য উইমেন অফ ইন্ডিয়া' নামে একটি সংগঠন এই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে আদালত নিজের থেকেই বিষয়টি আমলে নেয়। বিচারপতি বি. আর. গাভাই এবং অগাস্টিন জর্জ মাসিহের বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে এই রায়ে হাইকোর্টের বিচারপতির "সংবেদনশীলতার অভাব" প্রতিফলিত হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, "আমরা দুঃখের সাথে বলতে চাই যে এটি রায় লেখার সময় সম্পূর্ণ সংবেদনশীলতার অভাব দেখায়। এটি তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়নি, বরং চার মাস পরে প্রকাশিত হয়েছে। এতে সুস্পষ্টভাবে মনের প্রয়োগ ছিল। আমরা সাধারণত এই পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করি না, তবে যেহেতু এই রায় ভারতীয় সংবিধানের ২১, ২৪ এবং ২৬ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী এবং অমানবিক মনোভাব দেখায়, আমরা এই পর্যবেক্ষণ স্থগিত রাখছি"।
এছাড়া, সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছ থেকে এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া চেয়েছে। পাশাপাশি, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এবং অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটরামানির মতামতও চাওয়া হয়েছে এই মামলায়। আদপেও এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই বিচার বিবেচনা গ্রহণযোগ্য কিনা, তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে উভয়পক্ষকে।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিতর্কিত রায় কী ছিল?
গত ১৭ মার্চ এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রাম মনোহর নারায়ণ মিশ্রের বেঞ্চে এক মামলার রায়ে জানিয়েছিল, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ খাটবে না। আদালত নির্দেশ দেয়, অভিযুক্তের বিচার শুধুমাত্র ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪-বি ধারা (নারীর শালীনতার উপর আক্রমণ) এবং পকসো আইনের ৯/১০ ধারার অধীনে হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল, অভিযুক্তরা ১১ বছরের এক কিশোরীর গোপনাঙ্গ চেপে ধরে এবং তার পায়জামার দড়ি ছিঁড়ে ফেলে। তারা তাকে কালভার্টের নিচে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু পথচারীদের হস্তক্ষেপে ওই বালিকা উদ্ধার হয় এবং অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
তবে এলাহাবাদ হাইকোর্ট রায়ে বলেছিল, "এই ঘটনা ধর্ষণের চেষ্টার অপরাধ গঠন করে না, কারণ ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ আনতে হলে রাষ্ট্রপক্ষকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে ঘটনাটি প্রস্তুতির পর্যায়ের বাইরে চলে গেছে"। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পর এই বিতর্কিত রায় এখন স্থগিত রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications