অপ্রয়োজনে অভিযুক্তকে জেলে পাঠালে ট্রেনিং-এ পাঠানো হবে ম্যাজিস্ট্রেটকে: সুপ্রিম কোর্ট
supreme court of india: অভিযুক্তকে অহেতুক হেফাজতে পাঠালে ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। এমনটাই বলল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার একটি মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কিষান কাউল, বিচারপতি আহসানুদ্দিন আমানুল্লাহ ও বিচারপতি অরবিন্দ কুমারের ডিভিশন বেঞ্চের তরফে বলা হয়েছে, প্রয়োজন ছাড়া অভিযুক্তকে হেফাজতে পাঠালে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে বিচার প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে ও তাঁদের ট্রেনিং নিতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

ডিভিশন বেঞ্চের স্পষ্ট বক্তব্য বিচার প্রক্রিয়ায় আইনের পথ মেনে চলছে কি না, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হাইকোর্টের কর্তব্য।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এটা ঠিক নয়। হাইকোর্টগুলির দায়িত্ব হল, নিম্ন আদালতে আইন ঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা। যদি এমন কোনও নির্দেশ কোনও ম্যাডিস্ট্রেট দিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁকে বিচার প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দিয়ে কিছুদিনের জন্য বিভাগীয় পাঠ দেওয়া উচিত।
সুপ্রিম কোর্টের দাবি, এই ধরনের অর্ডার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেওয়া হয় উত্তর প্রদেশের কোর্টগুলি থেকে। বিশেষত হাথরাস, গাজিয়াবাদ ও লখনউ কোর্টের কথা উল্লেখ করেছে শীর্ষ আদালত। ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, এলাহবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে বিষয়টিতে নজর দিতে হবে। প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে হবে ও উপযুক্ত পরামর্শও দিতে হবে।
এই মামলায় শীর্ষ আদালত আরও উল্লেখ করেছে, আদালতকে জামিনের আবেদনে ২ সপ্তাহের মধ্যে নির্দেশ দিতে হবে। সেই সঙ্গে এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে যে, দোষী সাব্যস্ত করার হার কমে যাচ্ছে, জামিন মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে এমনটা যেন আদালত মনে না করে।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ ৪ মাসের মধ্যে সব রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা না দেওয়ার জন্য পরবর্তী শুনানিতে দিল্লি, তেলঙ্গনা, মেঘালয়, উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারকে শীর্ষ আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই মামলায় উপস্থিত ছিল সিবিআই। সিবিআই-এর অতিরিক্ত সলিস্যিটর জেনারেল এসভি রাজু জানিয়েছেন, এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা তাঁদের সংস্থাকে জানিয়ে দেবেন তাঁরা। ডিভিশন বেঞ্চের দাবি, শুধু সিবিআই নয়, সব রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থাকেই এ বিষয়ে অবগত করতে হবে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে স্টেটাস রিপোর্ট দিতে দেরি করার জন্য হাইকোর্ট ও কেন্দ্রীয় সংস্থাকে সতর্ক করেছিল।












Click it and Unblock the Notifications