আরাবল্লীতে কাউকে হাত দিতে দেবে না সুপ্রিম কোর্ট, হরিয়ানার জু সাফারি পরিকল্পনায় অনুমতি নাকচ
আরাবল্লী পর্বতমালা নিয়ে কোনওরকম হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না, কড়া বার্তা দিল দেশের শীর্ষ আদালত। হরিয়ানা সরকারের প্রস্তাবিত 'জু সাফারি' প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা (ডিপিআর) জমা দেওয়ার অনুমতি চেয়ে করা আবেদনেও সাফ না জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট করেছে, বিশেষজ্ঞরা 'আরাবল্লী রেঞ্জ'এর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ না করা পর্যন্ত এই অঞ্চলে কোনও প্রকল্পে এগোনোর অনুমতি মিলবে না।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানায়, আরাবল্লী শুধুমাত্র হরিয়ানা বা রাজস্থানের নয় এটি একাধিক রাজ্য জুড়ে বিস্তৃত একটি সংবেদনশীল পর্বতশ্রেণি। তাই এর সুরক্ষা জাতীয় স্বার্থের বিষয়। "বিশেষজ্ঞরাই সংজ্ঞা নির্ধারণ করবেন। তার আগে আরাবল্লীতে কাউকে হাত দিতে দেব না," মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।

হরিয়ানা সরকারের তরফে জানানো হয়, প্রকল্পের পরিসর ১০ হাজার একর থেকে কমিয়ে প্রায় ৩৩০০ একরে আনা হয়েছে। সরকারের আইনজীবী দাবি করেন, তারা কেবল কেন্দ্রীয় ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির (সিইসি) কাছে সংশোধিত ডিপিআর জমা দেওয়ার অনুমতি চান। তবে আদালত জানায়, আরাবল্লী সংক্রান্ত মূল মামলার শুনানির সঙ্গেই সাফারি প্রকল্পের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বেঞ্চ আরও পর্যবেক্ষণ করে, কখনও কখনও সিইসি-র অনুমোদন প্রক্রিয়াতেও বাছাই করা দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়। প্রকল্পপক্ষ বন, বন্যপ্রাণ ও পরিবেশের এক "রঙিন ছবি" তুলে ধরতে পারে বলেও মন্তব্য করে আদালত।
গত বছর অক্টোবরেই হরিয়ানা সরকারের বহুল প্রচারিত 'মেগা আরাবল্লী জু সাফারি প্রকল্প' এ স্থগিতাদেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। গুরগাঁও ও নুহ জেলার পরিবেশ সংবেদনশীল আরাবল্লী অঞ্চলে ১০ হাজার একর জুড়ে বিশ্বের বৃহত্তম চিড়িয়াখানা ও সাফারি গড়ার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। সেখানে বড় বিড়াল প্রজাতির জন্য পৃথক অঞ্চল ও শতাধিক পাখি, সরীসৃপ ও প্রজাপতির আবাস গড়ার প্রস্তাব ছিল।
এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে পাঁচজন অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় বন পরিষেবা (আইএফএস) আধিকারিক ও 'পিপল ফর আরাবল্লীস' নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা যৌথভাবে আবেদন জানায়। তাঁদের দাবি, ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত আরাবল্লী পর্বতমালার জন্য এই প্রকল্প চূড়ান্ত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
এরই মধ্যে আরাবল্লীর নতুন সংজ্ঞা নিয়ে বিতর্কও তীব্র হয়েছে। গত ২৯ ডিসেম্বর শীর্ষ আদালত আগের একটি নির্দেশ স্থগিত রাখে, যেখানে ১০০ মিটার উচ্চতা ও পাহাড়ের মধ্যে ৫০০ মিটার ব্যবধানের মানদণ্ডে একক সংজ্ঞা গ্রহণ করা হয়েছিল। আদালতের মতে, এই মানদণ্ডে পর্বতশ্রেণির উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবেশ সুরক্ষার আওতার বাইরে চলে যেতে পারে যা গুরুতর অস্পষ্টতা তৈরি করছে।
এ কারণে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয় আদালত। প্রাথমিকভাবে আদালতের পর্যবেক্ষণ, আগের কমিটির রিপোর্ট ও রায়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। পরিবেশগত সুরক্ষায় কোনও ফাঁক রয়ে যাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
পাশাপাশি, ২০১০ সালের ফরেস্ট সার্ভে অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত 'আরাবল্লী হিলস অ্যান্ড রেঞ্জেস' এ আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া খননের কোনও অনুমতি দেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশ বহাল রেখেছে শীর্ষ আদালত।
আরাবল্লী রক্ষায় আপসহীন অবস্থান নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিশেষজ্ঞদের মতামত না আসা পর্যন্ত জু সাফারি প্রকল্পে কোনও অগ্রগতি হচ্ছে না এ কথা স্পষ্ট।
-
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
কালিয়াচক কাণ্ডের পর ফের অশান্তি! অমিত শাহ-র রোড শো ঘিরে ভবানীপুরে ধুন্ধুমার, হাতাহাতি তৃণমূল-বিজেপির -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
ভবানীপুরে আজ শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি, শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী অমিত শাহ -
'খুব দ্রুত যুদ্ধ শেষ করব'! ইরান ইস্যুতে কড়া বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের, কী বললেন? -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা -
বসন্তের শেষে বাড়ছে পারদ! গরমে কী নাজেহাল হবে শহরবাসী? কী জানাচ্ছে হাওয়া অফিস? জানুন -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায়












Click it and Unblock the Notifications