বন্ধ হোক অনলাইন পর্নোগ্রাফি, কেড়ে নেওয়া হোক ধর্ষকের যৌন ক্ষমতা, সাংঘাতিক আবেদন পেল সুপ্রিম কোর্ট
সম্প্রতি আরজি করে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুন মামলায় জামিন পেয়েছেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডল। ৯০ দিনের মাথায় সিবিআই চার্জশিট দিতে না পারায়, এই দুই অভিযুক্তকেই আরজি কর মামলা থেকে জামিন দিয়ে দেয় আদালত।
যা নিয়ে নতুন করে আন্দোলন, প্রতিবাদ শুরু হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। গর্জে উঠেছেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা, সাধারণ মানুষেরা। এই আবহেই এবার ধর্ষণের শাস্তি নিয়ে নতুন আবেদন জমা পড়ল সুপ্রিম কোর্টে। সরাসরি ধর্ষণের শাস্তির বদল চাওয়া হল সেই আবেদনে।

সুপ্রিম কোর্টের কাছে করা আবেদনে বলা হয়েছে, নারকীয় ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের যৌন ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হোক। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের জবাব চেয়েছে শীর্ষ আদালত। এদিন বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি উজ্জ্বল ভুয়ান-এর ডিভিশন বেঞ্চে এই আবেদন জমা পড়ে।
একটি জনস্বার্থ মামলায় শীর্ষ আদালত কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারগুলিকে নোটিশ জারি করেছে এই সংক্রান্ত বিষয়ে। যৌন অপরাধীদের কাছ থেকে যৌন ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার দাবিতে এবং বিনামূল্যে অনলাইন পর্নোগ্রাফি নিষিদ্ধ করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে প্রত্যেকের কাছে। জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে আদালত আবেদনকারীর নতুন ভাবনার প্রশংসা করে এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি জানুয়ারী ২০২৫ সালে করবে বলে এও জানিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুয়ান-এর ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলিকে নোটিশ জারি করে বলেছেন যে, 'আবেদনে অনেক ভাবনা সম্পূর্ণ নতুন। তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাই এ বিষয়ে বিবেচনা করা উচিত'। বেঞ্চ বলেছে যে, "আবেদনকারীর দাবির আমরা প্রশংসা করি। কিন্তু যে নির্দেশিকাগুলির দাবি করা হয়েছে তার মধ্যে অনেক কিছুই বর্বর। তবে আমরা সাধারণ মহিলাদের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে সর্বত্র সুরক্ষিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করব"।
আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবী মহালক্ষ্মী পাভানি আদালতকে জানিয়েছেন, যে ২০১২ সালের ভয়ঙ্কর গণধর্ষণের ঘটনার বহু বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও মহিলাদের ওপর ধর্ষণ ও হত্যা থেমে নেই। লাগাতার তার পরিমাণ বেড়েই চলেছে। তাই সেই আইনের এবার বদল প্রয়োজন।
আইনজীবী মহালক্ষ্মী পাভানি এই প্রসঙ্গে আরজি করের কথাও তুলে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর কথায়, "আরজি কর ধর্ষণকাণ্ডের পরও ৯৪টি ঘটনা ঘটেছে কিন্তু সংবাদমাধ্যম তা তুলে ধরেনি। আমাদের শাস্তির ব্যবস্থা না বদলালে, এই ঘটনার কখনও শেষ হবে না। মহিলাদের সুরক্ষার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত"।
এই ক্ষেত্রেই আবেদনকারী, মোট ৮টি বিষয় তুলে ধরেছেন আবেদন হিসেবে। যেগুলি হল -
- ন্যাশনাল সেক্স অফেন্ডার রেজিস্ট্রি তৈরি করা হোক।
- বাধ্যতামূলকভাবে যৌনতায় অক্ষম বা কেমিক্যাল কাস্ট্রেশন করে দেওয়া হোক।
- পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হোক দেশের মধ্যে।
- স্কুলের পড়ুয়াদের এই সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতন করা হোক।
- যৌন হেনস্থার মামলায় ৬ মাসের মধ্যে বিচার শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হোক।
- যৌন হেনস্থার মতো ঘৃণ্য অপরাধের ক্ষেত্রে 'নন বেলেবল' নিয়ম চালু করা হোক।
- ক্যাব সংস্থার চালকদের পাঠ দিতে হবে কীভাবে মহিলা যাত্রীদের সাথে ব্যবহার করতে হয়।
- মার্শাল আর্ট ট্রেনিং দেওয়া হোক ছাত্রীদের।
এই সব আবেদনগুলি কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারগুলিকে এদিন ভেবে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।












Click it and Unblock the Notifications