জন্মাষ্টমীতে উপবাস রাখার শাস্তি, পড়ুয়াদের বেধড়ক মার, বহিষ্কার ছত্তিশগড়ের শিক্ষক
জন্মাষ্টমীতে উপবাস রাখার শাস্তি, পড়ুয়াদের বেধড়ক মার, বহিষ্কার ছত্তিশগড়ের শিক্ষক
অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল ছত্তিশগড়। শুধুমাত্র জন্মাষ্টমীতে উপবাস রাখার কারণে এক সরকারি স্কুলের শিক্ষক সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর পড়ুয়াদের বেধড়ক মারধর করেন। ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তিশগড়ের কোন্ডাগাঁওতে। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ওই শিক্ষককেও মারধর করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

হিন্দু ভগবানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য
চরণ মরকম নামে ওই শিক্ষক শুধু যে পড়ুয়াদের মারধর করেছেন তাই নয়, তিনি হিন্দু ভগবানদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ওই শিক্ষককে এই ঘটনার পর দ্রুত বহিষ্কার করা হয়। জানা গিয়েছে, গিরোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বুন্দাপাড়ায় সরকারি মিডল স্কুলে শিক্ষকতা করতেন চরণ মরকম। কোন্ডাগাঁওয়ের কালেক্টর পুষ্পেন্দ্র কুমার মীনা এই ঘটনার অভিযোগ পেয়ে প্রাথমিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

পড়ুয়াদের মারধর শিক্ষকের
গ্রাম পঞ্চায়েত এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছিলেন যে, মরকম জন্মাষ্টমীর উপবাস করার জন্য মঙ্গলবার স্কুলে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর কিছু ছাত্রকে মারধর করেছেন এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। মীনা জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা এই অভিযোগের স্বপক্ষে অডিও ও ভিডিও প্রমাণ পেশ করছেন। পরবর্তীকালে, একজন সরকারি কর্মকর্তাকে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল এবং তার রিপোর্টের ভিত্তিতে, শিক্ষককে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয় বলে তিনি জানান। কালেক্টর এও জানান যে এই রিপোর্ট পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সেই ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত করবে।

কি ঘটেছিল
বহিষ্কারের রিপোর্টে বলা হয়েছে, 'ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা এবং সমাজে বিদ্বেষ ছড়ানো মারাত্মক অসদাচরণের শ্রেণীভুক্ত।' সরকারি অন্য এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে সোমবার জন্মাষ্টমী পালন করা হয় এবং পরের দিন যখন পড়ুয়ারা স্কুলে আসে, মকরম তখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে যে কতজন জন্মাষ্টমীতে উপবাস রেখেছিল এবং উৎসবের সব রীতি পালন করেছে। যেব পড়ুয়ারা উপবাস করেছিল তারা হাত তোলে এবং তাদের অন্য পড়ুয়াদের থেকে আলাদা করে ওই শিক্ষক বেধড়ক মারধর করে তাদের।

পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে
পুলিশ জানিয়েছে তারা অভিযোগ পেয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে আদিবাসী সংগঠনের পক্ষ থেকে আলাদা করে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে, সেই অভিযোগে বলা হয় যে মকরমকে স্থানীয় বাসিন্দারা মারধর করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, 'আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি রিপোর্ট এবং শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থানীয় গ্রামবাসীদের অভিযোগ পেয়েছি।
এছাড়া, আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি সংগঠন সর্ব আদিবাসী সমাজের কাছ থেকে একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে, দাবি করে যে শিক্ষক স্থানীয়দের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিল।' এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications