ঐক্যে শক্তি, এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত, ৩১ অক্টোবর রাষ্ট্রীয় একতা দিবস কেন পালন করা হয়? জানুন
৩১ অক্টোবর গোটা দেশে পালিত হয় রাষ্ট্রীয় একতা দিবস। স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা লৌহমানব সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই দিনটি পালিত হয়। ভারতের ক্ষুদ্র ৫৬২টি দেশীয় রাজ্যকে একত্রিত করে আধুনিক ভারতের ভিত্তি গড়ে তোলার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন তিনি। তাই তাঁকে বলা হয় জাতীয় ঐক্যের স্রষ্টা।
২০১৪ সালে ভারত সরকার এই দিনটিকে সরকারি ভাবে জাতীয় সংহতি দিবস ঘোষণা করে। দেশ জুড়ে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও মজবুত করা ও 'এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারতের' ভাবনাকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতিতে যতই বৈচিত্র্য থাকুক না কেন একতাই হল এগিয়ে যাওয়ার মূল চাবিকাঠি।

২০২৫ সালে এই দিনটির গুরুত্ব আরও বেড়ে গেল। কারণ এ বছর পালিত হচ্ছে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী। এই উপলক্ষে সারা দেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর চিন্তা, দর্শন ও রাষ্ট্রগঠনের অবদানকে স্মরণ করা হচ্ছে।
১৮৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর গুজরাটের নাডিয়াদে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। ১৯১৮ সালে গান্ধীজির আহ্বানে খেদা সত্যাগ্রহ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে জনমানসে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।
১৯২৪ সালে আমেদাবাদ পৌর বোর্ডের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে শহরের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন তিনি। এরপর ১৯২৮ সালে বারদোলি সত্যাগ্রহ অসামান্য নেতৃত্ব দেওয়ায় এখান থেকেই তিনি পেয়েছিলেন 'সর্দার' উপাধি।
স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামলেছিলেন তিনি। জাতীয় ঐক্যের প্রকৃত প্রতীক সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল নিজের দূরদর্শী নেতৃত্ব, দৃঢ় সংকল্প ও অনমনীয় চরিত্রের মাধ্যমে স্বাধীন ভারতের মানচিত্র রক্ষা করেন। বিভাজনের আতঙ্কের সময় তিনি দেশীয় রাজ্যগুলিকে শান্তিপূর্ণভাবে একত্রিত করে ভারতের রাজনৈতিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করেন। তাই ইতিহাস তাঁকে লৌহমানব নামে স্মরণ করে।
তবে জাতীয় সংহতি দিবস আমাদের শপথ করায় বিভেদের নয়, ঐক্যের পথে চলতে
বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করতে।
শান্তি, সহযোগিতা ও সমৃদ্ধ ভারতের জন্য একসাথে কাজ করতে।












Click it and Unblock the Notifications