সংরক্ষণ নিয়ে সরকারের ওপরে চাপ বাড়ানোর কৌশল, ৫০% সীমা সরানো-সহ দুই দাবি নিয়ে প্রস্তুতি কংগ্রেসের
সুপ্রিম কোর্ট তফশিলি জাতি-উপজাতিদের মধ্যে পিছিয়ে পড়া অংশের জন্য আলাদা করে সংরক্ষণের কথা বলেছে। সেই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসে তরফে জাত শুমারির দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি তারা সংরক্ষণের ৫০ শতাংশ সীমা অপসারণের জন্য সরকারের ওপরে চাপ বাড়াতে তৈরি হচ্ছে।
এর সঙ্গে কংগ্রেসের তরফে সরকার যেসব জায়গা থেকে সরকারি কাজ আউটসোর্স করে, সেইসব বড় বেসরকারি ক্ষেত্রে সংরক্ষণের জন্য চাপ দিতেও তৈরি হচ্ছে। দলের বাইরে ও ভিতরেও এব্যাপারে পরামর্শ করা হচ্ছে।

- কংগ্রেসের প্রস্তুতি
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গের নেতৃত্বে দলের রাজ্য সভাপতি, মুখ্যমন্ত্রী, ইন্ডিয়া ব্লকের শরিক এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে এব্যাপারে আলোচনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, এব্যাপারে অনেকের ব্যক্তিগত মতামত পাওয়া গিয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে অনেকেই তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের মধ্যে ক্রিমি লেয়ার ধারনার সমালোচনা করেছেন।
- কংগ্রেসের আলোচনায় ছিলেন যাঁরা
মল্লিকার্জুন খার্গে এবং সনিয়া গান্ধী ছাড়াও সংরক্ষণ নিয়ে বৈঠকে ছিলেন কেসি বেনুগোপাল, অভিষেক মনু সিংভি, বিবেক টঙ্কা, চরণজিৎ সিং চান্নি, কুমারী শেলজা, পিএল পুনিয়া, মুকুল ওয়াসনিক, রণদীপ সুরজেওয়ালা, উদিত রাজ, রাজেশ লিলোথিয়া, নাসির হুসেন ও জয়রাম রমেশ।
কংগ্রেসের মতো অন্য দলগুলিও উপশ্রেণিবিভাগ নিয়ে এব্যাপারে সতর্কতার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। কারণ দলের অভ্যন্তরে এটাই মনে করা হচ্ছে, দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণ সংকুচিত হওয়ায় এব্যাপারে অন্য ফ্রন্টেও চাপ বাড়ানো দরকার।
- কী বলছে কংগ্রেস
উদিত রাজ বলেছেন, দল তফশিলি জাতি, উপজাতি ও অন্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণের ৫০ শতাংশ সীমা শিথিল করতে সংবিধান সংশোধনের জন্য ফের দাবি জানাবে। এছাড়াও কংগ্রেস সরকারের কাছে পড়ে থাকা শূন্যপদ পূরণ করতে এবং আউটসোর্স করা প্রকল্পে সংরক্ষণের দাবি করবে। এর পিছনে যুক্তি একটাই যে সরকারি নিয়োগে সংরক্ষণ রয়েছে, সেখানে আউটসোর্স করা সরকারি কাজে কোনও সংরক্ষণ মানা হচ্ছে না। এছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধেও চাপ বাড়ানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
- লোকসভায় সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা
অন্যদিকে লোকসভায় ডিএমকের এ রাজা তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য ক্রিমি লেয়ার বিভাজনের সমালোচনা করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে তিনি সরকারের কাছে দুই সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার জন্য আবেদন জানিয়েছেন।
লোকসভায় আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা এসসি-এসটিদের মধ্যে উপ শ্রেণিবিভাগের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি নিয়ে আলোচনা করেছেন। জানা গিয়েছে, শুধু ডিএমকের মতো ইন্ডিয়া ব্লকের দলই নয়, বিএসপির মায়াবতী এবং এনডিএ-র শরিক চিরাগ পাসোয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি এই বিভাজনের বিরোধিতা করেছেন।
- উপ-শ্রেণিকরণের বিরুদ্ধে বনধ
এদিকে, সুশীল সমাজের গোষ্ঠীগুলি ২১ অগাস্ট উপ শ্রেণিকরণের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বনধের ডাক দিয়েছে। এই কর্মসূচিতে বেশ কিছু কংগ্রেস নেতাকে দেখা যেতে পারে। দলের অনেকেই মনে করছেন উপ শ্রেণী বিভাগ দলিত ছাড়াও আদিবাসীদের উদ্বিগ্ন করেছে। সেই কারণে আলোচনায় তাদের প্রতিনিধিদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
এই ইস্যুটি সামনেই নির্বাচন হতে যাওয়া মহারাষ্ট্র ও ঝাড়খণ্ডের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই দুই রাজ্যে বিপুল সংখ্যায় তফশিলি জাতি ও উপজাতিরা রয়েছেন। প্রসঙ্গত দেশের মধ্যে পঞ্জাবের পরে হরিয়ানায় দলিতের সংখ্যা সব থেকে বেশি।
- কী বলেছে সুপ্রিম কোর্ট
প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির বেঞ্চ সম্প্রতি বলেছে, এসসি-এসটিদের মধ্যে আরও পিছিয়ে পড়াদের জন্য উপ শ্রেণিবিভাগের আলাদা সংরক্ষণ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি বিআর গাভাই বলেছেন, এসসি-এসটি বিভাগগুলির মধ্যে ক্রিমি লেয়ারগুলিকে সনাক্ত করতে একটি নীতি তৈরি করতে হবে এবং তাঁদেরকে সংরক্ষণ থেকে বের করে আনতে হবে। সত্যিকারের সমতা অর্জনের এটাই একমাত্র উপায় বলেও জানিয়েছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications