২০২৫-এ ঘটে গেছে ভয়ঙ্কর এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলি! যা গোটা বিশ্বের নজর কাড়ে, কোন মাসে কী কী ঘটেছিল? জানুন
বিশ্বজুড়ে একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ২০২৫ সালটি সকলের মনে থেকে যাবে। কোথাও প্রচণ্ড গরম, কোথাও বন্যা, কোথাও আবার ভূমিকম্প দেখা দিয়েছে। এই সব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে সাধারণ মানুষদের স্বাভাবিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ পর্যন্ত প্রায় কোনও দেশই রেহাই পায়নি এই বছর।

ভারতেও এই বিপর্যয়ের ছাপ একদম স্পষ্ট। বছরজুড়ে একের পর এক দুর্যোগ মানুষের জীবন এবং জীবিকাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছে।
বজ্রপাত এবং তীব্র গরম (এপ্রিল-জুন):
এই বছর এপ্রিল মাসে একসাথে ১২টি রাজ্যে বজ্রপাতে অন্তত ১৬০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তারপর উত্তর ভারত আবার দীর্ঘ সময় ধরে ভয়াবহ গরম পড়েছিল। দিল্লি সহ একাধিক শহরে দিনের বেলায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি পর্যন্ত হয়েছিল। এমনকি রাতেও সেই তাপমাত্রা কমেনি।
মে মাসে উত্তর-পূর্বে বন্যা:
অসম, মণিপুর এবং মিজোরামে ভয়াবহ বৃষ্টিপাতের কারণে বড়সড় বন্যা এবং ভূমিধস হয়। অনেক জায়গায় রাস্তা বন্ধ হয়ে যায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ভূমিকম্প ও মেঘভাঙা (জুলাই-আগস্ট):
জুলাইয়ে দিল্লি-এনসিআর এলাকা জুড়ে একাধিক ভূমিকম্প মানুষকে আতঙ্কে ফেলেছিল। আগস্টে আবার উত্তরাখণ্ডের ধরালি এবং জম্মু-কাশ্মীরের কিস্তওয়ারে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছিল।
বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড় (অগাস্ট-ডিসেম্বর):
এই বছরে পাঞ্জাবে বর্ষার শেষে বড় বন্যা হয়। অক্টোবরে অন্ধ্র উপকূলের দিকে ঘূর্ণিঝড় 'মোন্থা' আছড়ে পড়ে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে ঘূর্ণিঝড় 'দিতওয়া'-র প্রভাবে চেন্নাই জলমগ্ন হয়ে যায়।
এ বছর বিশ্বজুড়েও বিপর্যয়ের ছায়া দেখা গেছে। ভারতের বাইরে পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ।
ভূমিকম্প ও সুনামি:
মার্চ মাসে মায়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্পে তিন হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। জুলাইয়ে রাশিয়ার কামচাতকায় ভয়াবহ ভূমিকম্প হওয়ার পর সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়।
তাপপ্রবাহ এবং বন্যা:
ইউরোপ জুড়ে দীর্ঘ তাপপ্রবাহের কারণে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। নাইজেরিয়া এবং পাকিস্তানে বন্যার কারণে বিপুল প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতি হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ঝড়বৃষ্টি:
বছরের শেষে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন-সহ একাধিক দেশে ঘূর্ণিঝড় এবং বন্যার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
২০২৫ সালটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আগে থেকে কতটা সতর্কতা এবং প্রস্তুতি জরুরি, সেটাই বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এই সাল।












Click it and Unblock the Notifications