Sikkim Flood: সিকিমে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা! চার দিন ধরে আটকে তিন হাজার পর্যটক, খারাপ আবহাওয়ায় উদ্ধারে বাধা
Sikkim Flood: সিকিমে তিস্তার উপকূল বরাবর ধ্বংসের ছাপ। চার দিন পরেও মাটি ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে মিলছে দেহ। মঙ্গলবার রাতের হড়পা বানের পরে এখনও পর্যন্ত ৫৬ টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে তিস্তার অববাহিকা থেকে ৩০ টির বেশি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যে ২৩ জন জওয়ান নিখোঁজ ছিলেন, তার মধ্যে ৭ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সিকিমে চারদিন ধরে আটকে ৩ হাজারের বেশি পর্যটক। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টারে উদ্ধার অভিযানে বাধা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার বিমান বাহিনীর তরফে এমআই-১৭ হেলিকমপ্টার দিয়ে বেশ কয়েকবার উদ্ধার কাজ চালানোর চেষ্টা করা হয়। নিচু এলাকায় মেঘ থাকার ফলে লাচেন ও লাচুং উপত্যকায় দৃশ্যমানতা কম হওয়ার কারণে সমস্যায় পড়েছে সেনাবাহিনী।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানিয়েছে, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি ও কোতবিহারে তিস্তা অববাহিকা থেকে একের পর এক দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সিকিম সরকার জানিয়েছে, মঙ্গন থেকে চারটি দেহ, গ্যাংটক থেকে ছটি, পাকিয়ং থেকে ভারতীয় সেনা জওয়ানদের সাতটি দেহ-সহ মোট ১৬ টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সিকিম সরকারের দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে এখনও পর্যন্ত ১৪২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৫ হাজারের বেশি মানুষ। বন্যায় ১২০০-র বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৩ টি সেতু ভেঙে গিয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে এখনও পর্যন্ত ২৪১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। রাজ্যের ২২ টি ত্রাণ শিবিরে ৬৮৭৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে সিকিমের সড়ক ও সেতুমন্ত্রী সামদুপ লেপচা এবং ডিআইজি তাশি ওয়াঙ্গিয়াল ভুটিয়া শুক্রবার পায়ে হেঁটে চুংথং গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। এদিকে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে মাঙ্গান জেলার বেশিরভাগ জায়গায় হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় লাচুং ও লাচেনে মেঘলা আবহাওয়া থাকতে পারে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং মৃতদের পরিবারগুলিকে ৪ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি ত্রাণ শিবিরে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদেরকে ২ হাজার টাকা করে তাৎক্ষণিক ত্রাণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সরকারি তরফে এখনই ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একটি কমিটি গঠন করে বিশ্লেষণ করে, তা পরে জানানো হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের অগ্রাধিকার হল আটকে পড়া মানুষজনকে উদ্ধার করা এবং তাঁদের তাৎক্ষণিক ত্রাণ দেওয়া। শিলিগুড়ি পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত লোকেদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও লজিস্টিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও রাজ্যের বাইরে থেকে এসে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁরা চাইলে নিজ রাজ্যে ফিরতে পারেন বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা আশ্বস্ত করে বলেছেন, রাজ্যকে প্রয়োজনীয় সাহায্য দেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক একটি কেন্দ্রীয় দলও গঠন করেছে। যারা মেঘ ভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করবে।












Click it and Unblock the Notifications