Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

অঙ্গনওয়াড়ি শিক্ষক নিয়োগে কন্নড়ের চেয়ে উর্দুকে গুরুত্ব! তোষণের রাজনীতি? চাপে সিদ্দারামাইয়া সরকার

Urdu Over Kannada: কর্নাটকের মানুষের কাছে ভাষা বড় আবেগের। আর সেখানেই সিদ্দারামাইয়া নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারের এক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। চলছে প্রতিবাদ, সরব রাজনৈতিক মহল।

অঙ্গনওয়াড়ির শিক্ষকদের উর্দুতে সাবলীল হতে হবে, এমন নির্দেশ ঘিরেই তৈরি হয়েছে সমস্যা। এতে সামাজিক ঐক্য বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকছে, কর্নাটকের সামাজিক কাঠামোর কাছেও এই সিদ্ধান্ত বড় আঘাত হানবে বলে মনে করছেন অনেকে।

Urdu Over Kannada

বিতর্কিত পদক্ষেপ

মুড়িগেরে, চিক্কামাগালুরুর মতো জেলায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের বাস ভালোরকমই রয়েছে। প্রায় ৩২ শতাংশ। অঙ্গনওয়াড়িতে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীদের উর্দু ভাষায় সাবলীল থাকার বিষয়টি অন্যতম শর্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে এই জেলাগুলিতে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, এই পদক্ষেপ তোষণের রাজনীতি।

বিজেপির দাবি, কর্নাটকে ভাষাগত যে সংহতির ঐতিহ্য রয়েছে, কংগ্রেস সরকারের পদক্ষেপ তা বিনষ্ট করার পক্ষে যথেষ্ট। বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ নলিন কুমার কাটীল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মুসলিম তোষণের জন্য এমন নির্দেশিকা। যাতে কর্নাটকের কন্নড় ভাষাভাষীরা চাকরি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন।

ভাষাগত ঐতিহ্যের ধারা

ভাষা কর্নাটকে বরাবরই স্পর্শকাতর বিষয়। হিন্দি ভাষার প্রচলনের সময়েও এখানে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। মনে করা হয়েছিল, হিন্দি কন্নড় ভাষার বিপন্ন হওয়ার কারণ হতে পারে। কর্নাটকের সরকারি ভাষা কন্নড়। সেখানে কয়েকটি জেলায় উর্দুর উপর গুরুত্ব আরোপ কন্নড় ভাষার প্রতি আঘাত হানার অপচেষ্টা বলেই অনেকের দাবি।

কন্নড় ভাষা নিয়ে গোটা রাজ্য গর্বিত। সেখানে উর্দু ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে যে জেলাগুলিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের বেশি বসবাস সেখানে। তবে এতে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলি তো বটেই, গোটা রাজ্যেই ভাষাগত সংহতি ধাক্কা খাবে বলে অভিমত বিরোধীদের। মুসলিম সম্প্রদায়ের এর ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছেন অনেকে। সে কারণে কন্নড় ভাষা নিয়ে কট্টরপন্থীরা সরব হয়ে সরকারকে নির্দেশিকা প্রত্যাহারের চাপ দিচ্ছেন।

নানা সম্প্রদায়ের সহাবস্থানে ধাক্কা?

বেঙ্গালুরু-সহ কর্নাটকের নানা জায়গায় দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে যাওয়া মানুষ বসবাস করেন। বেশিরভাগই কর্মসংস্থানের কারণে। হিন্দি, তেলুগু, তামিল বা মারাঠী যাঁদের মাতৃভাষা। হিন্দি ভাষা যেখানে কন্নড়কে বিপন্ন করতে পারেনি, সেখানেই উর্দু ভাষাকে কন্নড়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব প্রদানের প্রচেষ্টাতেই বিতর্ক বেড়েছে।

উর্দুকে নিয়ে এমন নির্দেশিকা রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ভাষা বৈচিত্র্যের বড় আঘাত, বিপজ্জনক উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এর ফলে অনেক যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর বঞ্চিত হওয়ার মঞ্চ প্রস্তুত হয়েছে। যাঁরা স্রেফ উর্দু ভাষা না জানার কারণেই চাকরি পাবেন না। কর্নাটকের যে সামাজিক কাঠামোর ঐতিহ্য বর্তমান সেখানে কন্নড়কেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে অভিমত অনেকের। স্রেফ কোনও সম্প্রদায়ের শতকরা হারের ভিত্তিতে এভাবে ভাষাগত কোটা লাগু সঠিক কিনা সে প্রশ্নও উঠেছে।

উর্দু ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী

বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় সরকারি প্রকল্প ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংযোগস্থাপনে বড় ভূমিকা নিয়ে থাকেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। সেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভাষার বিষয়টি। কর্নাটকে কন্নড় ভাষা সকলেই বোঝেন, জানেন, বলতেও পারেন। সরকারের নির্দেশিকায় কোনও বিশেষ সম্প্রদায়ের সঙ্গে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের দূরত্ব বৃদ্ধির শঙ্কা থাকছে সরকারি নির্দেশিকায়।

কারণ, অনেকেই আছেন যাঁরা উর্দু বোঝেন না। কিন্তু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ কন্নড় ভাষা বলতে পারেন, বোঝেন। যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুবিধার জন্য এই পদক্ষেপ বলে দাবি করছে সরকার, বাস্তবে সামাজিক বিভাজনের পথ প্রশস্ত হবে বলে পাল্টা জনমত উঠে আসছে। যাতে সরকার-বিরোধিতাও বাড়তে পারে। কারণ, কন্নড় ভাষা নিয়ে গর্বিত কেউই এমন বিষয়টি পছন্দ করছেন না।

এমন মতামতও আসছে, উর্দুকে প্রাধান্য না দিয়ে কন্নড়কেই দেওয়া হোক। নিদেনপক্ষে দুটি ভাষাকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে যে এলাকাগুলির জন্য নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কিন্তু কখনোই কন্নড়কে উর্দুর চেয়ে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা মানা যাবে না। বর্তমানে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা তো মুসলিমদেরও পরিষেবা দিচ্ছেন। সেখানে ভাষার বেড়াজাল তৈরির কোন যৌক্তিকতা?

সরকারি নীতিতেই সমস্যা

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অঙ্গনওয়াড়ি শিক্ষকদের উর্দু জানা বাধ্যতামূলক করা সংক্রান্ত নির্দেশিকা বিশেষ ভাবনাচিন্তা ছাড়াই জারি করেছে সিদ্দারামাইয়া সরকার। এতে ভাষাগত ও সামাজিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। কন্নড়ের চেয়ে উর্দুকে এগিয়ে দিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কেই আখেরে সমস্যায় ফেলা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ভাষাগত কারণেই সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সঙ্গে অন্যদের দূরত্ব বাড়তে পারে।

কর্নাটকের মানুষ যেমন ভাষাগত গৌরব অনুভব করেন, তেমনই সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্যেও ঐক্যের ধারা প্রবহমান। কিন্তু সরকারের এই পদক্ষেপে সেই ঐক্য বিঘ্নিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। ফলে সরকারের এই ভাষাগত নীতিই এখন বড় প্রশ্নের মুখে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+