দিল্লি বিস্ফোরণের ছায়া দেশের নিরাপত্তায়, উমর আমিরের জাল ছড়িয়ে ছিল কাশ্মীর পর্যন্ত
১০ নভেম্বর লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই চমকে উঠছেন গোয়েন্দারা। তদন্তকারীদের হাতে এখন যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে ছবিটা আর শুধু একক সন্ত্রাস হামলার নয় বরং সুপরিকল্পিত বড়সড় চক্রান্তের। প্রসারিত জাল পৌঁছে গেছে সরাসরি জম্মু কাশ্মীর পর্যন্ত।
সূত্রের দাবি, যে বিস্ফোরক বারুদের মতো কার্যকর ছিল, তা তৈরি করা হয়েছিল অ্যাসিটোন অর্থাৎ যে রাসায়নিক সাধারণত নেইল পলিশ রিমুভারে থাকে এর সঙ্গে গুঁড়ো চিনি মিশিয়ে। ফারিদাবাদে উদ্ধার হওয়া ওই বিস্ফোরক ও দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে i20 গাড়ি বিস্ফোরণের নেপথ্যে একটাই নাম ড. উমর।এই উমরই সেই গাড়ির চালক, যার বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল ১৫ জনের। তিনিই ছিলেন গোটা মডেলের কথিত 'মাস্টারমাইন্ড'।

তদন্তে উঠে এসেছে, উমর নিজেকে ডাকতেন আমির অর্থাৎ নেতা বা শাসক। নিজেকে তিনি অন্যদের থেকে অনেক বেশি জ্ঞানী ভাবতেন। জানতেন অন্তত নয়টি ভাষা হিন্দি, উর্দু, ইংরেজি, আরবি ফারসি থেকে শুরু করে চিনা ও ফরাসি পর্যন্ত।
সহ অভিযুক্ত ড. মুজাম্মিল জানিয়েছেন, উমরের কথাবার্তা, গবেষণা ও যুক্তি নাকি বাকিদের সম্পূর্ণ প্রভাবিত করে ফেলেছিল। দাবি করতেন, দেশের "পরিবেশ খারাপ হচ্ছে, মেরুকরণ বাড়ছে, গণহত্যা হতে পারে"এই 'বিশ্বাস' থেকেই তাঁর চরমপন্থা।
২০২৩ সালের মেওয়াট নুহ দাঙ্গা, নাসির জুনায়েদের হত্যাকাণ্ড এসব ঘটনার প্রভাব গভীরভাবে নাকি নেমে গিয়েছিল তার মনে।
কাশ্মীরে 'বড় কিছু' করার ছক, গোপন চ্যাটিং চিনা ভাষায়
উমরের নেতৃত্বে তৈরি হয়েছিল পাঁচ সদস্যের একটি 'কোর টিম' মুজাম্মিল, আদিল, শায়না ও মুফতি ইরফান ছিলেন তার অংশ। দলটির সব যোগাযোগ হতো চিনা ভাষায়, এমনকি গ্রুপচ্যাটের নামও ছিল চিনা। মাত্র ছয়মাসে উমর ভাষাটি রপ্ত করে ফেলেছিলেন।
তদন্তকারীদের দাবি, ফারিদাবাদে সংগৃহীত বিস্ফোরক নিয়ে দলটি জম্মু কাশ্মীরে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে নিশানা করার পরিকল্পনা করেছিল।
সৌদি আরবের প্রফেসর স্ত্রী, লক্ষাধিক টাকা মডেলে ঢেলেছিলেন
মুজাম্মিলের স্ত্রী ড. শায়না, যিনি সৌদির এক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন, নাকি প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন এই নাশকতামূলক কাজে।
উমর ও মুজাম্মিলের বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল প্রথমে তুরস্কে গিয়েছিল উমর, যেখানে কোডনেম উকাসা র মতো হ্যান্ডলারদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। তারপর লক্ষ্য ছিল সিরিয়া বা আফগানিস্তান।
ঘরে বসেই বিস্ফোরক তৈরির পরীক্ষা, ডিপ ফ্রিজার দিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
ফরিদাবাদের ফ্ল্যাটে উমরের ঘর থেকে পাওয়া গেছে একটি ডিপ ফ্রিজার, যা বিস্ফোরক তৈরির উপাদানের উপযুক্ত তাপমাত্রা বজায় রাখতে ব্যবহার করা হত। বইপত্র, কেমিক্যাল, স্যুটকেসভর্তি উপাদান সবই উদ্ধার হয়েছে তদন্তকারীদের হাতে।
আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে বসেই উমর বানাতেন টিএটিপি এর মতো মারাত্মক বিস্ফোরক। গাড়িতে চিকিৎসকের সাইনবোর্ড থাকায়, মেওয়াট থেকে প্রচুর রাসায়নিক ও সার কেনার সময় তাঁদের সন্দেহ করা হয়নি।
পরিকল্পনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল ২০২৫ সালের শুরুতে। কিন্তু জম্মু কাশ্মীর পুলিশ অক্টোবর মাসে দুই পোস্টার প্রিন্টারকে ধরে ফেলতেই খোলস খুলতে শুরু করে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে মুফতি ইরফানের নাম যিনি পুরো দলটিকে নির্দেশ দিতেন। তাঁর ফোনেই পাওয়া যায় গ্রুপচ্যাট, সদস্যদের তথ্য এবং পরিকল্পনার সব নথি। এরপরই গ্রেপ্তার হয় মুজাম্মিল ও অন্যরা।












Click it and Unblock the Notifications