কাজে এলো না লিঙ্গায়েত ইস্যু! মোদী-শাহ জুটিতেই মাত কংগ্রেস
ফের কর্ণাটকে জিতল বিজেপি। কিন্তু সেখানে বিজেপির তরফে কোনও হাওয়া ছিল না। কিন্তু চোরাস্রোত কাজ করেছে বিজেপির জয়ে।রাজ্যের মানুষ যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহতে আস্থা রেখেছেন
২০০৮-এর পর ফের কর্ণাটকে জিতল বিজেপি। কিন্তু সেখানে বিজেপির তরফে কোনও হাওয়া ছিল না। কিন্তু চোরাস্রোত কাজ করেছে বিজেপির জয়ে। রাজ্যের মানুষ যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহতে আস্থা রেখেছেন তা বলাই যায়। কেননা প্রচারের ইয়েদুরাপ্পা নয়, একেবারে সামনের সারিতে ছিলেন মোদী-শাহ জুটি।

২০০৮ সালে কর্ণাটকে প্রথমবারের জন্য ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি। সেই সময় তা ছিল বিএস ইয়েদুরাপ্পার জয়। কিন্তু এবার প্রচার সামলেছেন মোদী-শাহ জুটি।
এপ্রিলের শেষ সপ্তাহেও বিজেপির প্রচারের সেরকম উৎসাহ ব্যঞ্জক কিছু ছিল না। ওই সপ্তাহের কর্ণাটকের প্রচারে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপর থেকেই যেন পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। যদিও কংগ্রেস তা অস্বীকার করে। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। কিন্তু ইয়েদুরাপ্পা যেন একটু বেশিই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনি প্রত্যেক সভায় দাবি করেছিলেন, তিনিই রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন।
প্রাথমিক পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, লিঙ্গায়েতরা পুরোপুরি বিজেপিকেই সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে, ভোক্কালিগারা সমর্থন করেছে জেডিএসকে। অন্যদিকে, বিজেপি রেড্ডি ভাইদের পেয়ে যাওয়ার ভোটের ফল তাদের দিকেই গিয়েছে।
কংগ্রেসের জনপ্রিয় স্কিম, স্থানীয় ভাবে প্রচার কিংবা লিঙ্গায়েতদের আলাদা জাতির মর্যাদা, কোনও কিছুই প্রভাব ফেলতে পারেনি। অন্যদিকে, মোদী-শাহ জুটি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রচার চালিয়েছেন। যার মধ্যে ছিল জাতীয় ইস্যুও।
কংগ্রেসের কন্নর গর্বের পাল্টা বিজেপিও কন্নর তাস খেলে। মোদী-শাহ জুটি কন্নর সাহিত্য থেকে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তা ছাড়াও প্রচারে বিশিষ্ট কন্নর ব্যক্তিদের কথাও তুলে ধরেন তাঁরা।
অন্যদিকে, যে বিএস ইয়েদুরাপ্পা ২০১৩-র নির্বাচনের আগে নতুন দল গঠন করে নির্বাচনী লড়াইয়ে সামিল হয়েছিলেন, তিনিই ২০১৪-র সাধারণ নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০১৬-তে তাকেই রাজ্য সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করে বিজেপি। পরে সরকারি ভাবে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী।
কিন্তু প্রচার ও কী ভাবে তা করা হবে, তার পুরো বিষয়টাই নিয়ন্ত্রিত হয়েছে দিল্লি থেকে। ইয়েদুরাপ্পা শুধুমাত্র ছিলেন বিজেপির মুখ। মাস খানেক আগে প্রশ্নের উত্তরে ইয়েদুরাপ্পা বলেছিলেন, বিজেপি হাইকমান্ড তাঁকে পুরোপুরিভাবে সমর্থন করছেন। এরজন্য তিনি কৃতজ্ঞ। মোদী-শাহ তাঁর ওপর বিশ্বাস রেখেছেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, দলের হাইকমান্ড তাকে সতর্কও করে দিয়েছে, যাতে তিনি ২০০৮-১৩-র ভুল আর না করেন। প্রশাসনের ওপর যাতে তিনি মন দেন সেই বিষয়েও বলা হয়েছে তাঁকে।
দলের হাইকমান্ড তাঁকে পথ দেখাবে এবং উপদেশ দেবে। হাইকমান্ডের কথা তাকে মানতেও হবে। জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপি নেতা।












Click it and Unblock the Notifications