ব্যাঙ্ক, স্কুল এবং ঘর ছাড়ার নোটিস, সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ৪০০০ পরিবার
ব্যাঙ্ক, স্কুল এবং ঘর ছাড়ার নোটিস, সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ৪০০০ পরিবার
ঘর ছাড়ার নোটিস এসেছে ডিসেম্বরেই। তারপর থেকে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছে একাধিক পরিবার। আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে অন্তত ৪০০০ পরিবার। উচ্ছেদ যাতে না করা হয়, সে আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে উত্তরাখণ্ডের হালদোয়ানি রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের নির্দেশ পাওয়ার পর ২৯ একর রেলের জমি খালি করে দেওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছে। আর এই নোটিশ ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর উত্তেজনা।

বাসিন্দাদের নোটিস দেওয়া হয়েছে
সেই নোটিস অনুযায়ী, শুধু ওই এলাকার বাড়ি ঘর ভেঙে দেওয়া হবে, তাই নয়, তার মধ্যে পড়ছে ১১ টি বেসরকারি স্কুল, একটি ব্যাঙ্ক, ২ টি জলের ট্যাঙ্ক, ১০ টি মসজিদ, ৪ টি মন্দির ও একগুচ্ছ দোকানপাট।
হাইকোর্টের নির্দেশ পাওয়ার পর গত ২০ ডিসেম্বর এলাকার বাসিন্দাদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা ৯ জানুয়ারির মধ্যে সব জিনিসপত্র সরিয়ে নেয়। প্রায় ২ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ ওই এলাকার মধ্যে রয়েছে গফুর বস্তি, ঢোলক বস্তি, ইন্দিরা নগর, বানভুলপুরা।

৫০ হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়া করা হচ্ছে
একদিকে অফিসাররা রাস্তায় নেমে ইন্সপেকশম শুরু করেছেন, অন্যদিকে মোমবাতি মিছিল করছেন এলাকার বাসিন্দারা। মসজিদে গিয়ে বিশেষ প্রার্থনাও করছেন অনেকে।
বৃহস্পতিবার হবে সেই মামলার শুনানি। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রদূড়, বিচারপতিএসএ নাজির ও বিচারপতি পিএস নরসিংহের ডিভিশন বেঞ্চে হবে সেই মামলার শুনানি।
কংগ্রেস নেতা তথা উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়ার তাঁর বাড়িতে ২৪ ঘণ্টার মৌনব্রত রেখেছিলেন এই ঘটনার পর। তিনি জানিয়েছেন, শিশু, গর্ভবতী মহিলা, মিলিয়ে অন্তত ৫০ হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়া করা হচ্ছে, যে ঘটনা মোটেই সুখকর নয়। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীই এরাজ্যের অভিভাবক, এ মৌনব্রত সেই মুখ্যমন্ত্রীকে উৎসর্গ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উচ্ছেদ করা প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে
রাজ্য় সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন একাধিক রাজনীতিক ও সমাজকর্মীও।
জেলাশাসক ধীরজ এস গারবয়াল জানিয়েছেন, রেলের জমি থেকে উচ্ছেদ করা প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা ছাড়াও স্কুল ও কলেজের পড়ুয়ারাও উচ্ছেদ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। স্কুল বা কলেজ সরানো হলে পড়ুয়ারাও সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
মামলাটি আদালতে ইতিমধ্যেই মেনশন করেছেন আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। তাঁর দাবি, যে এলাকায় বেশির ভাগ সংখ্যালঘুর বাস, সেখানেই বিজেপি সরকার এই উচ্ছেদ করছে। আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে এলাকার মানুষ।












Click it and Unblock the Notifications