ধূমপানের অভ্যাস ছাড়লে কমতে পারে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা, জানাচ্ছে গবেষণা
ধূমপানের অভ্যাস ছাড়লে কমতে পারে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা, জানাচ্ছে গবেষণা
গবেষকেরা জানাচ্ছেন ধূমপানের ফলে অনেকটাই বেড়ে যায় করোনা সংক্রমণের সম্ভবনা। একটি গবেষণায় দেখা গেছে সিগারেট বা তামাক জাতীয় পদার্থের ধোঁয়া ফুসফুসে এসিই-২ প্রোটিন তৈরি করতে সাহায্য করে। যেটি আবার করোনা ভাইরাসের মানব দেহে প্রবেশের পথে অনুঘটকের কাজ করে। বর্তমানে মার্কিন গবেষক দলের একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে, সিগারেট বর্জন করলে কমতে পারে করোনা জনিত সংক্রমণের সম্ভাবনা।

কি বলছে গবেষণা?
আমেরিকার কোল্ড স্প্রিং হার্বার নামক একটি ক্যানসার গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণায় উঠে এসেছে এই সংক্রান্ত তথ্য। গবেষক দলের তরফে জেসন শেল্টজার জানিয়েছেন, "আমাদের গবেষণার ফলাফল দেখলেই বোঝা যাবে কেন ধূমপায়ীরা করোনায় আক্রান্ত হলে ফল মারাত্মক হতে পারে।" গবেষক দলের মতে, সিগারেট বর্জন করলে এসএআরএস-সিওভি-২-এ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে। গবেষণায় উঠে এসেছে, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা পুরুষ, বয়স্ক ও ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে অধিক।

ধূমপায়ীদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশী
পূর্ব প্রকাশিত অন্যান্য গবেষণার তথ্যের উপর নির্ভর করে বিজ্ঞানীরা মানব প্রোটিন ও করোনার যোগাযোগ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। বিজ্ঞানীরা জানান, প্রথমে ভিন্ন বয়স, ভিন্ন লিঙ্গ, ধূমপায়ী ও অ-ধূমপায়ীদের ফুসফুসে জিনের ক্রিয়াকলাপ সম্বন্ধে গবেষণা হয়। এতেই উঠে আসে যে, ধূমপায়ীদের ফুসফুসে এসিই-২ প্রোটিন তৈরির পরিমাণ বেড়ে যায় প্রায় ৩০-৫৫%। যদিও এই প্রোটিন সৃষ্টির উপর লিঙ্গ বা বয়সের কোনও প্রভাব পড়ে না বলেই জানা যাচ্ছে।

ধূমপান ছেড়ে দিলে সংক্রমণের সম্ভাবনা কমবে
গবেষকদের মতে, যাঁরা ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন তাঁদের ফুসফুসে এই প্রোটিন তৈরির পরিমাণ অধূমপায়ীদের সমান। এই এসিই-২ প্রোটিন তৈরি করে মূলত গবলেট কোষ যেগুলি মিউকাস তৈরির জন্যেও দায়ী। ধূমপানের ফলে এই কোষগুলির ক্রিয়াকলাপ বেড়ে যায় বলে জানা গেছে।

ধূমপান নিয়ে জারি রয়েছে আরও বিস্তারিত গবেষণা
শেল্টজার জানিয়েছেন, "ভিন্ন ভিন্ন সমীক্ষা ও গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল। ফলত এখনও ধূমপান ও করোনার যোগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে।" বিজ্ঞানীরা এও জানিয়েছেন যে, এই সমীক্ষায় এসিই-২ প্রোটিন তৈরির অন্যান্য উপায় সম্বন্ধে জানানো হয়নি। শেল্টজার জানিয়েছেন, "শুধু ধূমপান নয়, অন্য যেকোন উপায়ে এই প্রোটিন তৈরি হলেই সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়বে। তাই সময় থাকতে সাবধান হওয়াই ভাল।"












Click it and Unblock the Notifications