RBI Repo Rate Cut: ৫ বছর পর কমল রেপো রেট, বাজেটের পর বড় স্বস্তি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ঘোষণায়
RBI MPC Meeting 2025: আরবিআইয়ের নবনিযুক্ত গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার সভাপতিত্বে প্রথম মুদ্রানীতি কমিটির দুদিনের বৈঠকে গৃহীত হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। বাজেটে করছাড়ে মধ্যবিত্তের স্বস্তি মিলেছিল। আর এবার জিডিপি বৃদ্ধির স্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের বড় সিদ্ধান্ত। রেপো রেট কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তরফে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার তরফে ২৫ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত রেপো রেট কমানোর আশা রেখেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। হলও তাই। আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানিয়ে দিলেন, ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমে রেপো রেট দাঁড়াল ৬.২৫ শতাংশে। ০.২৫ শতাংশ হারে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুদের হার কমাতে পারে বলে আশা ছিলই। ৫ বছরে এই প্রথম রেপো রেট কমল। যার জেরে আর্থিক বৃদ্ধি আরও গতিশীল ও চাঙ্গা হবে।

বর্তমানে ৬.৫০ শতাংশ ছিল রেপো রেট। আরবিআইয়ের মুদ্রানীতি কমিটির গত ১১টি বৈঠকে রেপো রেট অপরিবর্তিতই রয়েছে। গত ডিসেম্বরে মুদ্রানীতি কমিটি রেপো রেট একই রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। বাজার ব্যবস্থা ও মুদ্রাস্ফীতির উপর নজর রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল সেবারে। যদিও ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা নগদ জমার অনুপাত ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৪ শতাংশে আনা হয়েছিল। সেটি এবারেও অপরিবর্তিত রাখা হল।
ব্যাঙ্ক অফ বরোদার একটি সমীক্ষা বলছে, মুদ্রাস্ফীতির বোঝা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তার অন্যতম কারণ শাকসবজির দামে পতন। কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা সিপিআই-তে স্থিতাবস্থা এসেছে। সরবরাহে ব্যবস্থাও আগের থেকে উন্নত হয়েছে। রেপো রেট কমানোর যথেষ্ট জায়গা রয়েছে বলে ওই রিপোর্টে মতামত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সেইমতো এদিন রেপো রেট কমানোর সিদ্ধান্ত রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার।
রেপো রেট হল বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির উপর কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের আরোপিত সুদের হার। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে যে সুদের হারে ঋণ প্রদান করে, তাকেই বলা হয় রেপো রেট। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার তরফে রেপো রেট বাড়ানো হলে ব্যাঙ্কগুলির ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়ে যায়। প্রভাব পড়ে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলি থেকে গ্রাহকদের নেওয়া ঋণের উপরেও। তবে রেপো রেট কম হলে, সেই সুদের হারও কমে যায়। আর তাই, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্তে মধ্যবিত্তের আরও সুরাহা হবে বলেই আশা।
এদিন আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা আরও জানান, সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে গ্রামাঞ্চলের চাহিদা বৃদ্ধি হলেও শহুরে চাহিদা তেমন বাড়েনি। আগামী অর্থবর্ষে দেশের বৃদ্ধি ৬.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬.৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে মুদ্রাস্ফীতির হার দাঁড়াতে পারে ৪.২ শতাংশে। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ত্রৈমাসিকে যা যথাক্রমে ৪.৫ শতাংশ, ৪ শতাংশ ও ৩.৮ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের।












Click it and Unblock the Notifications