কেরলে ফের বিরল ব্রেন-ইটিং অ্যামিবার সংক্রমণ! ৫০ দিনের কম সময়ে তিনজনের মৃত্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ
কেরলে ফের অ্যামিবিক মেনিনগোয়েনসেফালাইটিসের আরেকটি ঘটনা। এটি বিরল মস্তিষ্কের রোগ। অ্যামিবা এই রোগ ছড়ালেও তা দূষিত জলের মাধ্যমেই করে থাকে। এই ধরনের অ্যামিবা দ্বারা তৈরি হওয়া এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা কেরলে চতুর্থ।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, ১৪ বছর বয়সী এক নাবালক এই রোগে আক্রান্ত হয়ে কোঝিকোডের একটি বেসরকারি হাাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই নাবালকের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, পয়লা জুলাই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে আক্রান্তের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে ওই চিকিৎসক আরও জানিয়েছে, দ্রুত সংক্রমণ শনাক্ত করার পরে বিজেশ থেকে ওষুধ আনিয়ে চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে।

গত মে মাস থেকে রাজ্যে এনিয়ে এটি চতুর্থ ঘটনা। এর আগে আক্রান্ত তিনজনেরই মৃত্যু হয়েছে। শেষ মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩ জুলাই। এর আগে গত ২১ মে এবং ২৫ জুন মালাপ্পুরমের পাঁচ বছরের শিশু কন্যা এবং কোঝিকোডে ১৩ বছরের নাবালিকার বিরল রোগে মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ জুন গুরুতর মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব এবং বমি করার উপসর্গ নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বাড়ির কাছে জলাশয়ে স্নান করার সময় ওই নাবালিকা সংক্রমিত হয়েছিল বলেই মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন।
এই অ্যামিবার বৈজ্ঞানিক নাম নেগেলেরিয়া ফাউলেরি। এতে আক্রান্ত হলে মস্তিস্কের টিস্যুর ক্ষতি হয়। অ্যামিবিক মেনিনগোয়েনসেফালাইটিসের লক্ষণগুলি সাধারণভাবে উপসর্গ শুরু হওয়ার দিন পনেরো পর থেকে প্রকাশ পায়। প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ নির্ণয় করা কঠিন কারণ এর লক্ষণগুলি ব্যাকটিরিয়া বা ভাইরাল মেনিনজাইটিসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
প্রথমে খুব বেশি মাথাব্যথা, বেশি জ্বর, বমি বমি ভাব কিংবা বমি হলেও পরবর্তী সময়ে খিচুনি হতে পারে। এমন কী রোগী কোমায় পর্যন্ত চলে যেতে পারে। আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের দেওয়া তথ্য অনুসারে এই অ্যামিবা উষ্ণ মিষ্টিজলের হ্রদ, নদী কিংবা উষ্ণ প্রস্রবণে জন্মায়। খারাপ রক্ষণাবেক্ষণের কারণে তা সুইমিং পুলেও পাওয়া যেতে পারে। সাধারণভাবে এর সংক্রমণ হয় নাক দিয়ে। তারপর তা ঘ্রাণজনিত স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে চলে যায়।
শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এক সচেতনতা সভায় বলেন সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে অপরিষ্কার জলে স্নান করা যাবে না। জলাশয়ের জলকে পরিষ্কার রাখতে সবাইকেই উদ্যোগ নিতে হবে, বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুইমিংপুলে যথাযথ ক্লোরিনেশন করতে হবে। পাশাপাশি শিশুদেরও যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications