গরমের জন্য প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ, তাপপ্রবাহকে জাতীয় বিপর্যয়ের অন্তর্ভুক্ত করার পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের
বিগত কয়েক বছর ধরেই ভারতের তাপমাত্রার পারদ উর্ধ্বমুখি। প্রতি বছরই গরম নতুন রেকর্ড গড়ছে। দেশজুড়ে অত্যাধিক গরমে প্রাণ হারাচ্ছেন বহু মানুষ। কিন্ত বন্যা, খরা, ভূমিকম্প বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো তাপপ্রবাহ জাতীয় বিপর্যয়ের অর্ন্তভুক্ত নয়। এবার কি তাপপ্রবাহ এবং শৈত্যপ্রবাহও জাতীয় বিপর্যয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে?
সম্প্রতি একটি মামলায় রাজস্থান হাইকোর্ট বলেছে যে তাপপ্রবাহ এবং শৈত্যপ্রবাহকে "জাতীয় বিপর্যয়" হিসাবে ঘোষণা করা দরকার। বৃহস্পতিবার তাপপ্রবাহের কারণে মারা যাওয়া মানুষদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার সময় আদালতের এই পর্যবেক্ষণ এসেছে।

রাজস্থানে তাপপ্রবাহের জেরে হিটস্ট্রোকের সংখ্যা ইতিমধ্যেই প্রায় ৪,০০০। অনেকের মৃত্যুও হয়েছে। মুখ্য সচিবের অধীনে প্রস্তুত 'হিট অ্যাকশন প্ল্যান' কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য অবিলম্বে এবং যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বিভিন্ন বিভাগের কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। হিটস্ট্রোকে যারা মারা গেছে তাদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হাইকোর্ট রাজস্থানের মুখ্যসচিবকে বিভিন্ন দপ্তরের জন্য অবিলম্বে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। যাতে তারা রাজ্যের জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্পের আওতায় তাপপ্রবাহ সংকান্ত পরিকল্পনা কার্যকরভাবে রূপায়নের উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে পারে।
বিচারপতি অনুপ কুমার ধান্ডের একক বিচারকের বেঞ্চ রাজ্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা দিয়েছে। বড় জন চলাচলের সাথে রাস্তায় জল ছিটাতে এবং প্রয়োজনে ট্র্যাফিক সিগন্যালে শীতল স্থান, ছায়া দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালতের পক্ষ থেকে।
আদালত আরও বলেছে যে রাজস্থানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগ এবং রাজস্থান রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের পরামর্শ এবং নেতৃত্বে 'হিট অ্যাকশন প্ল্যান' তৈরি করা হয়েছিল। তবে তা 'অক্ষর ও চেতনায়' বাস্তবায়িত হয়নি।
কেন্দ্রীয় ও রাজ্য কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং কর্ম পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে, আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে এই ধরনের কর্ম পরিকল্পনার খসড়া তৈরি করা সত্ত্বেও, জনসাধারণের সুবিধার জন্য কল্যাণ রাষ্ট্র দ্বারা তাদের বাঁচানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। যেমন চরম তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি।
আদালত বলেছে, "তাপপ্রবাহের আকার চরম আবহাওয়ার কারণে, এই মাসে শত শত লোক প্রাণ হারিয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় প্রাকৃতিক কারণেই এই সমস্ত মানুষদের মৃত্যু হচ্ছে। যে প্রতি বছর তাপপ্রবাহ, বৃষ্টি এবং ঠান্ডার কারণে বহু মানুষ মারা যায়। বিশেষ করে দরিদ্ররা প্রাণ হারায়।
একই সঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ, সারাদেশে প্রচণ্ড তাপ ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে বিপুল সংখ্যক মৃত্যুর দিকে তাকিয়ে, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (সংক্ষেপে "এনডিএমএ") এটি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। হিটওয়েভ ও হিটওয়েভকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা প্রয়োজন












Click it and Unblock the Notifications