রাহুল গান্ধীর সংবিধান নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, একের পর এক আক্রমণের তির ছুঁড়ছে বিজেপি!
ভারতীয় সংবিধানকে ঘিরে কংগ্রেস সাংসদ ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর মন্তব্যে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, দেশের সংবিধান "হাজার হাজার বছরের পুরনো", এবং এতে বিআর আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধী, গুরু নানক, জওহরলাল নেহরু ও সন্ত কবীরের চিন্তাভাবনা প্রতিফলিত হয়েছে। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে।
বিজেপি সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে "অজ্ঞতার চূড়ান্ত নিদর্শন" বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "রাহুল গান্ধী জানেন না যে সংবিধান ১৯৪৭ সালে তৈরি হয়নি। তখন গণপরিষদের কাজ শুরু হয়েছিল মাত্র। সংবিধান ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর চূড়ান্ত করা হয়, এবং তাই দিনটি সংবিধান দিবস হিসেবে পালন করা হয়। কংগ্রেস সেই উদ্যোগকে কখনও স্বাগত জানায়নি"।

তিনি আরও বলেন, "এই ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের কারণেই সংবিধান দিবসের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়ে"। তাঁর কথায়, এই ভাবেই দিনের পর দিন সংবিধান নিয়ে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে আসছে কংগ্রেস। তবে মানুষ এবার তাঁদেরকে চিনে গেছে।
বিজেপির মুখপাত্র জয়বীর শেরগিল রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে ব্যঙ্গ করে বলেন, "যদি রাহুল গান্ধীর আত্মজীবনী লেখা হয়, তার নাম হবে 'Failure to Launch'। এমন একজন নেতা, যিনি জানেন না কবে সংবিধান লেখা হয়েছে, এখন কংগ্রেসের নেতৃত্বে আছেন"।
বিজেপি নেতা অজয় অলোক এক ধাপ এগিয়ে মন্তব্য করে বলেন, "একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, অথচ সংবিধান সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞানও নেই। তিনি বলছেন সংবিধান হাজার বছরের পুরনো এবং ১৯৪৭ সালে লেখা। এটা ভারতের জন্য লজ্জাজনক"।
এই মুহূর্তে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাহুল গান্ধীর বক্তব্য নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে ধারণা, খুব শীঘ্রই কংগ্রেস এই বিতর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক শুধুমাত্র রাহুল গান্ধীর বক্তব্য ঘিরেই নয়, বরং সংবিধানের ব্যাখ্যা ও মূল্যবোধ নিয়েও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে।












Click it and Unblock the Notifications