'প্রতিষ্ঠান দেশের, কোনও দলের নয়'! বিদেশের মাটিতে বিজেপিকে কড়া আক্রমণ রাহুল গান্ধীর, কী বললেন তিনি?
বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়েও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। জার্মানির বার্লিনে হেরটি স্কুলে (Hertie School in Berlin) এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক এবং প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান গুলিকে নিজেদের স্বার্থের জন্য ব্যবহার করছে।

রাহুলের দাবি, দেশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উপর বিজেপি সরাসরি আক্রমণ করছে। তাঁর কথায়, "দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর একরকমভাবে দখলদারি চলছে। আর সেই দখলদারি করেই গোটা ব্যবস্থাটাকে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে।"
ED-CBI নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ
রাহুল গান্ধী বলেন যে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এবং সিবিআই এখন আর স্বাধীনভাবে কাজ করছে না। তিনি অভিযোগ করেন, এই সংস্থাগুলিকে বিরোধীদের দমনে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি।
তিনি বলেন যে, "ED এবং CBI-র হাতে বিজেপির বিরুদ্ধে কোনও মামলাই নেই। অথচ বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা চলছে। কীভাবে? যারা বিজেপির বিরোধিতা করে, তাদেরকেই টার্গেট করা হচ্ছে।"
এমনকি ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন রাহুল। তাঁর কথায়, "কোনও ব্যবসায়ী কংগ্রেসকে সমর্থন করলে, তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। এর থেকেই স্পষ্ট যে, দেশের প্রতিষ্ঠানগুলি আর তাদের আসল ভূমিকা পালন করতে পারছে না।
#WATCH | Berlin, Germany | Lok Sabha LoP Rahul Gandhi says, "There is a wholesale capture of our institutional framework. Our intelligence agencies, ED and CBI have been weaponised. ED and CBI have zero cases against BJP and most of the political cases are against the people who… pic.twitter.com/ffaoEamAPI
— ANI (@ANI) December 22, 2025
'প্রতিষ্ঠান দেশের, কোনও দলের নয়'
রাহুল গান্ধী আরও বলেন যে, "কংগ্রেস সরকারই দেশের এই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করেছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও কংগ্রেস কখনও এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে দেখেনি। আমরা কখনই ভাবিনি এই প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের। এগুলো দেশের। কিন্তু বিজেপি এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের বলে মনে করছে এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।"
গণতন্ত্র বিপন্ন, লড়াই চলবে: রাহুল
লোকসভায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, ভারতে গণতন্ত্র এখন চাপে রয়েছে। তবে কংগ্রেস চুপ করে বসে থাকবে না।
তাঁর কোথায়, "আমরা বিজেপির সঙ্গে লড়াই করছি না, আমরা দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর দখলদারির বিরুদ্ধে লড়াই করছি। বিরোধী শক্তিকে সংগঠিত করার পরেই এই লড়াই জেতা হবে।"
ফের ভোট কারচুপির অভিযোগ
এই সভা থেকেই ভোট কারচুপির অভিযোগও তোলেন রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, "২০২৪ সালের হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচন বিজেপির পক্ষে সাজানো হয়েছিল। তেলেঙ্গানা, হিমাচল প্রদেশে আমরা জিতেছি। কিন্তু হরিয়ানায় কী কী হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ আছে। মহারাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়েও আমরা একদম সন্তুষ্ট নই।"
রাহুল অভিযোগ করেন যে, ভোটার তালিকায় ডুপ্লিকেট নাম, অনিয়ম এইসমস্ত কিছু নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। তাঁর কথায়, "আমাদের বিশ্বাস যে, ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থায় গুরুতর সমস্যা রয়েছে।"
দুই বিপরীত ভাবনার সংঘাত
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অর্থনৈতিক নীতিরও সমালোচনা করেছেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন যে, "বিজেপি এবং আরএসএস আসলে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের নীতিরই সম্প্রসারণ করেছে। তারা নতুন কোনও দিশা দিতে পারেনি।"
তাঁর দাবি, মোদী সরকারের অর্থনৈতিক মডেল এখন কার্যতভাবে অচল রয়েছে। এই মডেল আর দেশের মানুষের জন্য কার্যকর নয়।
তিনি বলেন যে, বহু মানুষই মোদীকে সমর্থন করেন, কিন্তু দেশের বড় অংশ এই আদর্শের সঙ্গে একমত নয়। তাঁর মতে, এই ভাবনাটাই সমাজে বিভাজন তৈরি করছে।
তাঁর কোথায়, "এই দৃষ্টিভঙ্গি একদিন ব্যর্থ হবেই। এটা মানুষের সঙ্গে মানুষে সংঘর্ষ বাড়াবে। এটাই এখন ভারতের দুই বিপরীত ভাবনার লড়াই।"
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই পাঁচ দিনের জন্য জার্মানি সফরে গিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। বার্লিনে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি তিনি জার্মানির ভাইস চ্যান্সেলর লার্স ক্লিংবাইল (Lars Klingbeil) ও প্রাক্তন চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস (Olaf Scholz)-এর সঙ্গেও বৈঠক করেন।
এছাড়াও, রাহুল একটি BMW কারখানাও পরিদর্শন করেন। সেখানে ভারতের উৎপাদন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন এবং দেশে শিল্প উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।












Click it and Unblock the Notifications