বিশ্ব বাজারে হুড়মুড়িয়ে পড়ছে দাম, দেশে পেট্রোল-ডিজেল হবে আরও সস্তা
নয়াদিল্লি, ১৪ জানুয়ারি: বিশ্ব বাজারে রেকর্ড পড়ে গেল অপরিশোধিত তেলের দাম। তার জেরে ভারতে আরও এক দফা দাম কমতে চলেছে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন ও রান্নার গ্যাসের। দু'-একদিনের ক্রমহ্রাসমান দাম ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত বছরের জুন মাসে অপরিশোধিত খনিজ তেলের দাম ছিল ব্যারেল পিছু ১১১ ডলার। তা কমতে কমতে গতকাল দাঁড়ায় ৪৫ ডলার! বিগত ছ'বছরে দাম এত কমেনি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আগামী এক মাসে এই দাম আরও কমে দাঁড়াতে পারে ব্যারেল পিছু ৩৮ ডলার। সেক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলি ধাক্কা খেলেও ভারত, ব্রাজিলের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলি লাভবান হবে।

নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর গত সাত মাসে বেশ কয়েকবার কমেছে পেট্রোল, ডিজেল ও ভর্তুকিহীন রান্নার গ্যাসের দাম। ফলে 'আচ্ছে দিন' এসে গিয়েছে ভারতে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এ বার তেলের দাম আরও কমতে চলেছে চলতি মাসে।
কিন্তু বিশ্ব বাজারে কেন তেলের দাম এভাবে পড়ে যাচ্ছে? কারণ হল, তেল-যুদ্ধ শুরু হয়েছে আমেরিকা, রাশিয়ার সঙ্গে সৌদি আরবের। আমেরিকা ও রাশিয়াতে বিপুল পরিমাণ খনিজ তেলের ভাণ্ডার থাকলেও তারা এতদিন তা ব্যবহার করত না। বাইরে থেকে তেল আমদানি করত। এর জেরে বিশ্ব বাজারে সৌদি আরব তথা ওপেক (অর্গানাইজেশন অফ পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ) একচ্ছত্রভাবে দাম নিয়ন্ত্রণ করত। কিন্তু আমেরিকা ও রাশিয়ার অর্থনীতি এই মুহূর্তে নানা কারণে চাপে রয়েছে। ফলে তেল আমদানি করে তারা বেশি অর্থ খরচ করতে রাজি নয়। এই দুই দেশ নিজস্ব উৎপাদন বাড়িয়ে নিজেদের চাহিদা মেটাচ্ছে। পাশাপাশি, বিশ্ব বাজারে তেল বিক্রি করে নিজেদের আর্থিক অবস্থা চাঙ্গা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে সৌদি আরব এক তীব্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন। এই পরিস্থিতি সামলাতে তারা দ্রুত কমিয়ে দিচ্ছে তেলের দাম। উদ্দেশ্য, আমেরিকা ও রাশিয়ার বাজার খেয়ে নেওয়া। তাই তেলের দাম কমে যাচ্ছে।
তবে, পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস কিংবা কেরোসিনের দাম আরও কমলে ভারতের সাধারণ মানুষের মুখে যে হাসি চওড়া হবে, তাতে সন্দেহ নেই।












Click it and Unblock the Notifications