হরিয়ানার নুহতে পূর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র! সংঘর্ষের সময় পাকিস্তানপন্থী স্লোগান প্রকাশ্যে
হরিয়ানার হিংসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই এই আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মনোহরল্লা খাট্টার। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের একটি মিছিলে পাথর ছোড়ার পর থেকেই সেখানে হিংসা শুরু হয় এখনও পর্যন্ত সেখানে দুই হোমগার্ড-সহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। গ্রেফতারের সংখ্যা প্রায় দেড়শো।
পুলিশি তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। দাবি পিছনে রয়েছে ষড়যন্ত্র। এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে হিংসার সময় আক্রমণকারী জনতা পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়েছিল। পুলিশের একজন এএসআই এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলে দাবি করা হয়েছে। যেখানে ভিএইচপির মিছিল শেষ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে পাথর ছুঁড়ে জনতা সেই স্লোগান দেয়।

হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী খাট্টার ইতিমধ্যেই বলেছেন আক্রমণটি একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল। কেননা কোনও গণ্ডগোল ছাড়াই ভিএইচপির মিছিল শুরু হয়েছিল। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত বিশদ বিবরণ দিয়ে ৪৪ টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, ভিএইচপির মিছিল যাওয়ার সময়ই তাতে হামলা ও পুলিশকে আক্রমণ করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। মিছিলের পথে বেশ কয়েকটি জায়গায় হিংসার খবর পাওয়া গিয়েছে। এর পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই মুহূর্তে পাকিস্তানপন্থী স্লোগান পুলিশের স্ক্যানারে রয়েছে। বেশ কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টও স্ক্যান করা হচ্ছে। কেননা পুলিশের সন্দেহ আক্রমণকারীদের সংঘবদ্ধ করতে সেই পোস্টগুলি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে পুলিশ আধিকারিকদের আরেকটি দল অস্ত্রের সন্ধান শুরু করেছে, যা সংঘর্ষের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রসঙ্গত নুহ ছাড়াও পালওয়াল ও গুরুগ্রামেও দোকান ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাটি যে পূর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, তা আরও শক্তিশালী হয়েছে, নুহ সাইবার থানায় হামলায়। হামলাকারীরা একটি বাস ছিনতাই করে থানার সীমানার মধ্যে আসে। সংরক্ষিত তথ্য নষ্টের চেষ্টায় চারা সাইবার থানায় হামলা চালায়। অনেক নথিও পুড়িয়ে দেয়। তবে সাইবার থানায় হামলায় মূল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। এবার পুলিশ সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আক্রমণকারীদের সনাক্ত করতে ব্যস্ত।
অন্যদিকে হরিয়ানা সরকারও এই ঘটনার পিছনে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে। কেননা যেভাবে পাথর থেকে শুরু করে অস্ত্র ও গুলি মজুত করা হয়েছিল, তাতে মনে হচ্ছে, এই হিংসা পরিকল্পনা করে সংগঠিত করা হয়েছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল ভিড বলেছেন, হিংসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নুহতে আধাসামরিক বাহিনীর ১৪ কোম্পানি, পালওয়ালে ৩ টি এবং গুরুগ্রামে ২ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications