ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা নরেন্দ্র মোদীর! বিজেপির মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ নিয়ে সতর্ক করলেন প্রশান্ত কিশোর
তৃতীয়বারের জন্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ যে ক্ষমতায় আসতে চলেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর। কিন্তু বিজেপির তরফে ভোটারদের মধ্যে যে ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, সে ব্যাপারে সতর্ক করেছেন প্রশান্ত কিশোর।
প্রসঙ্গত, প্রশান্ত কিশোর আগেই বলেছেন, এনডিএ এককভাবে ২০১৯-এর থেকে কিছু আসন বেসি পেতে পারে, কিন্তু বিজেপি এককভাবে ৩৭০ আসন কিংবা এনডিএ-র ৪০০ আসন পাওয়া সম্ভব নয়। এই কথা তিনি ফের একবার বলেছেন, এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের অনুষ্ঠানে।

প্রশান্ত কিশোর বলেছেন, বিজেপি যেটা করছে, সেটা হল মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের একটা অংশ। তিনি বলেছেন, সাধারণের মধ্যে ন্যারেটিভ অর্থাৎ অ্যাখ্যান এনডিএ কিংবা বিজেুপি জিতেবে কিনা, এই জায়গা থেকে ৩৭০-৪০০ আসনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সংসদে পর্যন্ত বলেছেন, ৩৭০ হল বিজেপির টার্গেট। কিন্তু তিনি বলেছেন, বিজেপি ৩৭০ পর্যন্ত পৌঁছনোর কোনও সম্ভাবনাই নেই। এনডিএ-র হিসেব ধরে তাদের ফল কিছুটা ভাল হতে পারে। ২০১৯-এর তুলনায়। গতবার তারা ৩৩০ পেয়েছিল এবার সেখান থেকে দশ-পনেরো কিংবা কুড়ি শতাংশ ভাল ফল হতে পারে।
তিনি বলেন, বিজেপির ৩৭০ পাওয়া মানেই দেশের কোনও সমস্যা নেই কিংবা উবে গিয়েছে এমনটা নয়। তিনি বলেছেন, এই দেশ দেখেছে কোনও একটি দল এককভাবে ৪০০-র বেশি আসন পেয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পরে রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস ৪০০-র বেশি আসন পেয়েছিল।
তিনি বলেছেন, এমন একটি ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে, যেন বিজেপির থেকে কোনও দল, মোদীর থেকে শক্তিশালী নেতা দেশে কোনও সময় ছিলেন না। ৭০ দশকের শুরুতে ইন্দিরা গান্ধীর এমনই পরিস্থিতি ছিল। তিনি কোনও ভুল করতে পারেন না, এমন একটা ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর সামনে কোনও চ্যালেঞ্জ যেন ছিল না।
কোনও দল, কোনও ক্যাডার ছাড়াই গরিবি হটাও স্লোগানে ১৯৭১ সালে বিপুল জয়ের পরেও, মাত্র তিন বছরের মধ্যে ১৯৭৩ সালে দেশের একটা বড় অংশের মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিলেন। সেই কথাই মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর।












Click it and Unblock the Notifications