উৎসবের মরশুমে আলুর দাম আকাশ ছোঁয়া, ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণ জেনে নিন
মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত, সকলের হেঁশেলের নিত্য প্রয়োজনীয় সবজি হল আলু। আলু ছাড়া কোনও রান্নাই সম্পূর্ণ নয়। অথচ এই আলুরই দাম দিন দিন আকাশ ছোঁয়া হয়ে যাচ্ছে। গোটা দেশে বর্তমানে অক্টোবর মাসে প্রতি কেজি আলুর দাম দাঁড়য়েছে ৩৯.৩০ টাকা, যা ১৩০ মাসে এই প্রথম। এমনটাই তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় উপভোক্তা, খাদ্য ও গণ বন্টন মন্ত্রকের রাজ্য নাগরিক সরবরাহ বিভাগ।

লকডাউনের সময় থেকেই বাড়ছে আলুর মূল্য
এই মাসে দিল্লিতে আলুর গড় দাম গোটা ভারতের তুলনায় সামান্য বেড়েঠে তা হল প্রতি কেজ ৪০.১১ টাকা। ২০১০ সালের জানুয়ারি, প্রায় ১১ বছর পর এই দাম দেখা গেল রাজধানীতে। এই অক্টোবরে কেজি প্রতি সর্বভারতীয় গড় খুচরো মূল্য ২০১৯ সালের অক্টোবরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ (প্রতি কেজি ২০.৫৭ টাকা)। ২০২০ সালের অক্টোবরে দিল্লিতে আলুর গড় দাম ৬০ শতাংশ বেড়েছে গত বছরে তুলনায়। ২০১৯ সালে এই সময়ে আলুর দাম ছিল প্রতি কেজি ২৫ টাকা করে। মন্ত্রকের পোর্টালে যদিও শুধুমাত্র ২০১০ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত তথ্য উপলব্ধ রয়েছে। মরশুম বদলের কারণে সাধারণত সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে আলুর দাম বৃদ্ধি পায়, তবে এ বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চ থেকেই আলুর দাম বাড়তে শুরু করে দিয়েছে, সেই সময় প্রতি কেজি আলুর দাম ২৩ টাকা করে ছিল।

আলু কম সংরক্ষণ হয়েছে
আলুর খুচরো মূল্য বৃদ্ধির একটি অন্যতম কারণ হল অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর আলু কম সংরক্ষণ করা হয়েছে। লকডাউন চলাকালীন এপ্রিল ও মে মাসে ক্রমাগত আলুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এই দাম বৃদ্ধি লকডাউনের পরেও যে বাড়তে পারে তা মন্ত্রকের কাছে সতর্ক বার্তা ছিল। এপ্রিল-মে মাসে লকডাউনের সময় আলুর দাম ধীরগতিতে অথচ ক্রমাগত বেড়েই চলছিল।

হিমঘরে অন্যান্য বছরের তুলনায় কম সংরক্ষণ হয়েছে
কিছু পরিসংখ্যানের মতে, ভারত জুড়ে হিমঘরে মাত্র ৩৬ কোটি বস্তা (প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি) আলু সংরক্ষিত হয়েছিল, যা মূলত এ বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে (শীতকাল-বসন্ত) রবি ফসল হিসাবে কাটা হয়েছিল। ২০১৯ সালে এই সময় তা ৪৮ কোটি বস্তা আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল, ২০১৮ সালে ৪৬ কোটি বস্তা ও ২০১৭ সালে তা ছিল ৫৭ কোটি বস্তা আলু। কৃষি ও কৃষক উন্নয়ন মন্ত্রকের থেকে পাওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ বছর হিমঘরে আলু সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে ২১৪.২৫ লক্ষ টন, যা ২০১৮-১৯ সালে ছিল ২৩৮.৫০ লক্ষ টনের কাছাকাছি। লকডাউনের সময় আলুর দাম যে ধীরগতিতে বাড়ছিল তা প্রাক-লকডাউনে আলুর দাম বাড়ার একটি সতর্ক বার্তা ছিল মন্ত্রকের কাছে। সেই সময় থেকে যদি আলু সংরক্ষণ করে রাখা হত তবে এই সময় এই সমস্যার সৃষ্টি হত না বলে মন্ত্রকের পক্ষ থেকে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

বেশ কিছু দেশে ভারত আলু আমদানি করে
কর্মাস মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আলুর দাম বৃদ্ধির আরও একটি কারণ হল, খুব বেশি না হলেও ভারতের পক্ষ থেকে অন্য দেশে আলু রপ্তানি করা হয়। এ বছরের এপ্রিল-অগাস্ট মাসে ভারত ১.২৩ মেট্রিক টন আলু নেপাল, ওমান, সৌদি আরব ও মালেশিয়ায় রপ্তানি করা হয়েছে। কর্মাস মন্ত্রী পীযূশ গোয়েল, যিনি উপভোক্তা, খাদ্য ও গণ বন্টনের অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি বলেন, ‘আলুর (খুচরো) দাম বেশ কিছুদিন হল ৪২ টাকায় এসে থেমে গিয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই ভুটান থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন আলু আমদানি করবে ভারত।' মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আলুর দাম মাঝারি করা হবে এবং আশা করছি দাম খুব শীঘ্রই নিয়ন্ত্রণে আসবে। তিনি জানিয়েছেন যে এর আগে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিতে হত, কিন্তু তা এখন ১০ মেট্রিক টন আলুর ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক দিতে হবে ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

আলু চাষ হয় যে রাজ্যগুলিতে
উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, পাঞ্জাব, অসম, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড ও হরিয়ানায় প্রধান রবি আলু উৎপাদনের রাজ্য। উত্তরপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদন হয়, ২৭ শতাংশ আলু চাষ হয় এ রাজ্য থেকে, সরকারের পক্ষ থেকে বেসরকারি হিমঘরগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সব সংরক্ষিত আলু বের করে দিতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications