পুতিনকে পাশে নিয়ে মোদীর মুখে মানবজাতির সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণের কথা, উল্লেখ করলেন সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলিও
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে পাশে নিয়ে ভারত ও রাশিয়ার পারস্পরিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানান, উদ্ভাবন, সহ-উৎপাদন এবং সহ-সৃষ্টির এক নতুন পথে একসঙ্গে হাঁটছে দুই দেশ।
আজ দিল্লিতে আয়োজিত 'ভারত-রাশিয়া বিজনেস ফোরাম'-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারত বিশ্বের 'দক্ষতার রাজধানী' হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে এবং দেশের তরুণ প্রজন্ম বিশ্বের সকল চাহিদা পূরণে সক্ষম।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, দুই দেশের লক্ষ্য শুধু পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধি নয়, বরং মানবজাতির সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। তাঁর মতে, বিশ্বজুড়ে যে সমস্ত চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলির টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি। ভারত এই গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাপথে রাশিয়ার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় বাজারে বিনিয়োগের জন্য রুশ ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানান। তিনি রুশ শিল্পপতিদের উদ্দেশে বলেন, "আসুন, ভারতে উৎপাদন শুরু করুন, ভারতের সঙ্গে অংশীদার হোন।" এই আহ্বান 'মেক ইন ইন্ডিয়া' উদ্যোগকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
মোদী আরও বলেন, ভারত বিশ্বের 'দক্ষতার রাজধানী' হয়ে উঠছে এবং আমাদের তরুণ প্রতিভা বিশ্বব্যাপী চাহিদা মেটাতে সক্ষম। তিনি ব্যাখ্যা করেন, রাশিয়ার জনতাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার বিবেচনা করে এই অংশীদারিত্ব উভয় দেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ভারতীয় প্রতিভাদের রুশ ভাষা ও সফট স্কিল প্রশিক্ষণ দিয়ে একটি 'রাশিয়া প্রস্তুত কর্মীবাহিনী' তৈরি করা সম্ভব, যা দুই দেশের সম্মিলিত সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দুই দেশের নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে উভয় দেশের মধ্যে পর্যটন বৃদ্ধি পাবে, ট্যুর অপারেটরদের জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
তিনি পুনরায় জোর দেন, "ভারত ও রাশিয়া উদ্ভাবন, সহ-উৎপাদন ও সহ-সৃষ্টির এক নতুন যাত্রায় একসঙ্গে পা বাড়াচ্ছে।"
স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত সারা বিশ্বে সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চমানের ঔষধ সরবরাহ করে। এই কারণেই ভারতকে 'বিশ্বের ফার্মেসি' বলা হয়। তিনি প্রস্তাব করেন, যৌথভাবে ভ্যাকসিন তৈরি, ক্যান্সার থেরাপি, রেডিওফার্মাসিউটিক্যালস এবং এপিআই সাপ্লাই চেইন নিয়ে কাজ করা যেতে পারে। এটি স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা বাড়াবে এবং নতুন শিল্প বিকাশে সাহায্য করবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রাকৃতিক ফাইবার থেকে শুরু করে টেকনিক্যাল টেক্সটাইল পর্যন্ত ভারতের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। ডিজাইন, হস্তশিল্প এবং কার্পেট শিল্পে ভারতের বিশ্বব্যাপী উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে, রাশিয়া পলিমার এবং সিন্থেটিক কাঁচামালের একটি বড় উৎপাদক। একসঙ্গে, উভয় দেশ একটি শক্তিশালী টেক্সটাইল ভ্যালু চেইন তৈরি করতে পারে। একইভাবে, সার, সিরামিক, সিমেন্ট, উৎপাদন শিল্প এবং ইলেকট্রনিক্সের মতো ক্ষেত্রগুলিতেও সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
মোদী উল্লেখ করেন, ভারত বর্তমানে সাশ্রয়ী, দক্ষ ইভি (EV), টু-হুইলার এবং সিএনজি গতিশীলতা সমাধানে বিশ্বের মধ্যে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়া উন্নত উপকরণের একটি প্রধান উৎপাদক। তিনি বলেন, উভয় দেশ ইভি উৎপাদন, স্বয়ংচালিত উপাদান এবং ওয়্যারলেস গতিশীলতা প্রযুক্তিতে অংশীদার হতে পারে। এটি শুধুমাত্র নিজেদের চাহিদা পূরণ করবে না, বরং গ্লোবাল সাউথ, বিশেষ করে আফ্রিকার উন্নয়নেও অবদান রাখবে।
প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ ক্ষেত্রকে ভারত বেসরকারি খাতের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে, যা এই সেক্টরগুলিতে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি আরও বলেন, এখন অসামরিক-পারমাণবিক খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এটিকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক সংস্কার নয়, বরং 'মনোজগতের সংস্কার' হিসেবে অভিহিত করেন। এই সংস্কারগুলির পেছনে একমাত্র সংকল্প হলো একটি 'উন্নত ভারত' গড়ে তোলা।
পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর জন্য তিনি কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। লজিস্টিকস এবং কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে, প্রধানমন্ত্রী পুতিন এবং তিনি উভয়ই সংযোগের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁরা ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর (INSTC) এবং নর্দান সি রুটের পাশাপাশি চেন্নাই-ভ্লাদিভোস্তক করিডোর নিয়ে এগিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। খুব শীঘ্রই এই দিকে অগ্রগতি হবে বলে জানানো হয়।
এই পদক্ষেপগুলি ট্রানজিট সময় কমাবে, খরচ হ্রাস করবে এবং ব্যবসার জন্য নতুন বাজার খুলে দেবে। ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে শুল্ক, লজিস্টিকস এবং নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাগুলিকে ভার্চুয়াল ট্রেড করিডোরের মাধ্যমে সংযুক্ত করা যেতে পারে। এর ফলে শুল্ক ছাড়পত্র দ্রুত হবে, কাগজপত্র কমবে এবং পণ্য চলাচল আরও নির্বিঘ্ন হবে।
প্রধানমন্ত্রী ফোরামে এত বড় একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে আসার জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান। ভারত ও ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের (EAEU) মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "ব্যবসা হোক বা কূটনীতি, যে কোনও অংশীদারিত্বের ভিত্তি হলো পারস্পরিক বিশ্বাস। এই বিশ্বাসই ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি। এটি আমাদের যৌথ প্রচেষ্টাকে দিকনির্দেশনা ও গতি দেয়।" তাঁর এই মন্তব্য দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে।
দু-দিনের ভারত সফরে এসেছেন পুতিন। আজ তিনি দেখা করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গেও। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।
-
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত












Click it and Unblock the Notifications