জম্মু-কাশ্মীরের একাধিক অংশে পাক ড্রোন! দু'সপ্তাহে বহুবার অনুপ্রবেশের চেষ্টা, কীসের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান?
সীমান্ত এবং উপকূল, দু'দিক থেকেই এবার নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে পাকিস্তানের তৎপরতা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই জম্মু-কাশ্মীরের একাধিক এলাকায় একসাথে পাকিস্তানি ড্রোনের গতিবিধি ধরা পড়েছে। রামগড় সেক্টর, পুঞ্চ সহ বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশে আচমকাই একাধিক ড্রোন উড়ে আসতে দেখা গেলে সাথে সাথে সক্রিয় হয়ে পড়েন ভারতীয় সেনা। সেনার তরফে লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন গুলি চালানো হয়। সেনা সূত্রের খবর যে, বেশ কয়েকটি ড্রোন গুলি খেয়ে ভেঙে পড়েছে।

প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে যে, ভেঙে পড়া ড্রোনগুলির মধ্যে বিস্ফোরক অথবা বারুদ ছিল। সেনা সূত্রের দাবি যে, এই ড্রোনগুলির মূল লক্ষ্য ছিল সামরিক ঘাঁটি। মনে করা হচ্ছে যে, সীমান্ত পেরিয়ে ড্রোনের মাধ্যমে হামলার করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছিল। গত দুই সপ্তাহের মধ্যেই তিন থেকে চারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। যেসমস্ত ঘটনায় অস্ত্র এবং বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করেছে। এর ফলে সেনা আধিকারিকরা বড়সড় কোনও ষড়যন্ত্রের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিতে পারছেন না।
এর আগেও সীমান্তবর্তী এলাকায় পাক ড্রোনের ঘনঘন উড়তে থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন সেনা প্রধান। পাকিস্তানের কার্যকলাপ যে একেবারেই স্বাভাবিক নয়, সেই ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন তিনি। প্রতিরক্ষা মহল মনে করছে যে, সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় সেই আশঙ্কাই আরও জোরালো হচ্ছে।
পাকিস্তানের এরকম সন্দেহজনক তৎপরতা সীমান্তের পাশাপাশি পশ্চিম উপকূলেও ধরা পড়েছে। গুজরাট উপকূলের কাছে আরব সাগরে নজরদারির সময় একটি সন্দেহজনক নৌকা ভেসে থাকতে দেখতে পায় ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী। সেই নৌকাটিতে পাকিস্তানের পতাকা লাগানো ছিল এবং তার গায়ে লেখা ছিল 'আল মদিনা'। এই নাম এবং পতাকা ঘিরেই রহস্য আরও গভীর হয়েছে।
উপকূল রক্ষী বাহিনীর সূত্রে জানা গিয়েছে যে, নৌকাটির ভিতর থেকে বেশ কিছু সন্দেহজনক সামগ্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার হয়েছে। এই নৌকার মাধ্যমে কোনওরকম অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়েছে কি না, নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও পরিকল্পনা ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জানা যাচ্ছে যে, নৌকাটি থেকে ৯ জন পাকিস্তানিকে আটক করা হয়েছে।
সীমান্তে ড্রোন অনুপ্রবেশ এবং সমুদ্রে সন্দেহজনক নৌকা, দু'দিক থেকেই আবার পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে সতর্ক হয়ে উঠেছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়ে গিয়েছে। সীমান্ত এবং উপকূল জুড়ে নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications