শিশুদের দেখার অনুপযোগী কনটেন্ট নিয়ে পদক্ষেপ, ওটিটিতে বয়স-ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস কেন্দ্রের
শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলিতে কঠোর সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করেছে। এর মূল লক্ষ্য, শিশুরা যাতে অনুপযোগী বিষয়বস্তুর সংস্পর্শে না আসে সেটি নিশ্চিত করা। তথ্য প্রযুক্তি নিয়মাবলী, ২০২১ অনুযায়ী, প্রতিটি প্ল্যাটফর্মকে বিষয়বস্তুকে পাঁচটি বয়স-ভিত্তিক বিভাগে শ্রেণীবদ্ধ করতে এবং অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অনুপযোগী বিষয়বস্তুতে প্রবেশ সীমিত করতে হবে।
রাজ্যসভায় কানিমোড়ির এক প্রশ্নের উত্তরে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগান সরকারের এই প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন। তিনি সংবিধানের ১৯(১) ধারার বাক স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখে নৈতিক ডিজিটাল মিডিয়া অনুশীলন নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। মুরুগান উল্লেখ করেন, আইটি নিয়মাবলীর তৃতীয় অংশ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সহ অনলাইন কিউরেটেড কনটেন্ট প্রকাশকদের জন্য একটি নীতিবিধি বাধ্যতামূলক করেছে।

এই নীতি অনুযায়ী, ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলিকে বিষয়বস্তু পাঁচটি বয়স-ভিত্তিক বিভাগে ভাগ করতে হবে। এছাড়াও, শক্তিশালী প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ও দর্শক যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুপযুক্ত বিষয়বস্তুতে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি, বিদ্যমান আইন দ্বারা নিষিদ্ধ কোনও বিষয়বস্তু যাতে প্রচার না হয়, তাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিয়মাবলীতে সংবাদ ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রকাশকদের জন্য ১৯৯৫ সালের কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কস আইনের প্রোগ্রাম কোড এবং প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার সাংবাদিকতা আচরণবিধি অনুসরণের কথা রয়েছে। এই বিধিগুলি ডিজিটাল মাধ্যমে ভুল, বিভ্রান্তিকর বা অর্ধ-সত্য তথ্য প্রচার নিষিদ্ধ করে।
নীতিগুলি সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে আইটি নিয়মাবলীতে তিন-স্তরের অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর প্রথম স্তরে প্রকাশক, দ্বিতীয় স্তরে স্ব-নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং তৃতীয় স্তরে কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধান প্রক্রিয়া কাজ করে। মন্ত্রী মুরুগান জোর দিয়ে বলেন, এই কাঠামোটি জবাবদিহিতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে।
এছাড়াও, আইটি নিয়মাবলীর দ্বিতীয় অংশ অনুযায়ী, ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো মধ্যস্থতাকারীদের সুস্পষ্টভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো বন্ধ করতে হবে। এই কাজে সহায়তার জন্য, প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর অধীনে ২০১৯ সালের নভেম্বরে একটি ফ্যাক্ট চেক ইউনিট গঠিত হয়েছে। এটি কেন্দ্রীয় সরকার সম্পর্কিত তথ্য যাচাই এবং সরকারী সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেল ব্যবহার করে সংশোধনী প্রচার নিশ্চিত করে।
উল্লেখ্য, আইটি আইনের ৬৯এ ধারা সরকারকে এমন ওয়েবসাইট, পোস্ট বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্লক করার ক্ষমতা দেয়, যা ভারতের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। দেশের নিরাপত্তার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সরকার ভারতের ডিজিটাল ক্রিয়েটরদের ক্ষমতায়নে বেশ কয়েকটি উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে 'ওয়ার্ল্ড অডিও ভিজ্যুয়াল অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট সামিট (ওয়েভস) ২০২৫' এবং 'ক্রিয়েট ইন ইন্ডিয়া চ্যালেঞ্জেস (সিআইসি)'। সিআইসি শিল্প-সংযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রতিভাকে পেশাদার বিষয়বস্তুতে রূপান্তরিত করতে ক্রিয়েটরদের সহায়তা করে।












Click it and Unblock the Notifications