স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার পথে বিরোধীরা
লোকসভায় বিরোধী কণ্ঠ রোধের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি স্পিকারের ভূমিকাকেই কাঠগড়ায় তুলতে চলেছে বিরোধী শিবির। সূত্রের খবর, লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি শুরু করেছে বিরোধীরা। রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বক্তব্য রাখার সুযোগ না দেওয়াতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।
সংসদ ভবন চত্বরে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের কার্যালয়ে ইন্ডিয়া জোটের ফ্লোর লিডারদের বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধীও। সূত্রের দাবি, সংসদের বিধি অনুযায়ী ২০ দিনের নোটিসের প্রয়োজন হওয়ায় বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হতে পারে।

বিরোধীদের অভিযোগের তালিকায় একাধিক বিষয় উঠে এসেছে। তাঁদের দাবি, লোকসভায় বিরোধী দলনেতাকে বারবার বক্তব্য রাখতে না দেওয়া হয়েছে, চেয়ার থেকে মহিলা সাংসদদের নাম করে মন্তব্য করা হয়েছে, ট্রেজারি বেঞ্চের কয়েকজন সাংসদকে নিয়মিত বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে ও আট জন বিরোধী সাংসদকে পুরো অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে যা সংসদীয় গণতন্ত্রের পরিপন্থী।
এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস সাংসদ কে সি বেণুগোপাল বলেন, "সংসদীয় রীতিতে বিরোধী দলনেতা ছায়া প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা পালন করেন। অথচ এখানে তাঁকে কথা বলতেই দেওয়া হচ্ছে না। সরকার নির্বিঘ্নে আক্রমণ চালাতে পারে, অথচ বিরোধীদের জন্য সংসদে কোনও জায়গাই রাখা হচ্ছে না। এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।"
তিনি আরও জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা, কিন্তু সেখানেও অনুমতি মেলেনি। বেণুগোপালের অভিযোগ, "সরকার সংসদকে কার্যত নিজের সম্পত্তিতে পরিণত করতে চাইছে।"
কংগ্রেস ইতিমধ্যেই স্পিকারের উপর আস্থা নেই বলে জানিয়েছে এবং সাসপেন্ড হওয়া আট সাংসদের বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সঞ্জয় ঝা বলেন, "এত সংখ্যক সাংসদকে সাসপেন্ড করার পর বিরোধীদের হাতে আর সংসদের ভেতরে প্রশ্ন তোলার সুযোগই থাকছে না।"
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ২০২০ সালের চিন ভারত সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন রাহুল গান্ধী। স্পিকার জানিয়ে দেন, অপ্রকাশিত নথির উল্লেখ করা যাবে না, ও তাঁকে বক্তব্য চালিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি। এর জেরেই লোকসভায় প্রবল হট্টগোল শুরু হয়।
পরবর্তীতে 'চেয়ারের দিকে কাগজ ছোড়া' ও বিধি ভঙ্গের অভিযোগে কংগ্রেস ও সিপিআই(এম) এর আট জন সাংসদকে বাজেট অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হিবি ইডেন, রাজা ওয়ারিং, মানিকম টেগোর, গুরজিত সিং আওজলা, প্রশান্ত পাডোলে, চামালা কিরণ কুমার রেড্ডি, ডিন কুরিয়াকোস এবং সিপিআই(এম) সাংসদ এস ভেঙ্কটেশন।
এছাড়াও ৫ ফেব্রুয়ারি স্পিকার ওম বিড়লা জানান, সম্ভাব্য 'অভূতপূর্ব পরিস্থিতি' এড়াতে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লোকসভায় না আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কারণ গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল কয়েকজন কংগ্রেস সাংসদ প্রধানমন্ত্রীর আসনের দিকে এগিয়ে যেতে পারেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বাজেট অধিবেশনের শুরু থেকেই বারবার অচলাবস্থার মুখে পড়েছে সংসদ। বিরোধীরা একাধিক ইস্যুতে আলোচনার দাবিতে সরব। এর মধ্যেই ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ২০২৬ ও ২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেন, যা ছিল লোকসভায় তাঁর টানা নবম বাজেট উপস্থাপন।












Click it and Unblock the Notifications