প্রতি ৬৫,০০০ মানুষের জন্য ১ জন চক্ষু বিশেষজ্ঞ রয়েছেন ভারতে! কেন এই হাল? ফাঁস করল দিল্লি AIIMS
দিল্লির এইমস-এর এক পর্যবেক্ষনে দেখা গেছে যে, দেশে প্রতি ৬৫,০০০ মানুষের জন্য গড়ে মাত্র একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ পাওয়া যায়। দেশব্যাপী তৃতীয় স্তরে ২০,৯৪৪ জন চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং প্রাথমিক স্তরে ১৭,৮৪৯ জন চক্ষু বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। অন্যদিকে মানুষের অন্ধত্ব দূর করার জন্য ২০২০ সালের মধ্যে ২৫,০০০ চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং ৪৮,০০০ হাসপাতাল ভিত্তিক প্যারামেডিক নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ভারতের উচ্চ স্তরের হাসপাতালগুলি থেকে চক্ষু চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করার লক্ষ্যে উপলব্ধ মানবসম্পদ ও পরিকাঠামো নির্ধারণের জন্য ২০২০ সালের নিয়ম অনুসারে এইমস-এর ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদ, সেন্টার ফর অফথালমিক সায়েন্সেসের ডক্টর প্রবীণ ভাশিস্ট এবং তার দলের নেতৃত্বে এই গবেষণাটি করা হয়েছিল।
দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলিতে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো। যদিও বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গে ডাক্তারের অনেক অভাব রয়েছে। আরপি সেন্টারের কমিউনিটি চক্ষুবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং অফিসার ইনচার্জ ডঃ প্রবীণ ভাশিস্ট বলেন, গবেষণার অংশ হিসেবে নথিভুক্ত ৮,৭৯০টি চক্ষু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭,৯০১টি প্রতিষ্ঠানেই প্রতিক্রিয়ার হার ৮৯.৯ শতাংশ।
সমগ্র দেশের জন্য চক্ষু ইনস্টিটিউটে জনসংখ্যার অনুপাত ছিল প্রতি ১,৬৪,৫৩৬ জনে একজন। প্রায় ৭০.৬ শতাংশ চক্ষু প্রতিষ্ঠানই বেসরকারি ছিল এবং ১৫.৬ শতাংশ সরকারি ও ১৩.৮ শতাংশ এনজিও ছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞের অনুপাত ৮.৩৩ থেকে দিল্লিতে ০.৪৫ পর্যন্ত। সমগ্র দেশে চক্ষু বিশেষজ্ঞ জনসংখ্যার অনুপাত ১:৬৫,২২১ পাওয়া গেছে। দেশে প্রতি মিলিয়ন জনসংখ্যার জন্য চক্ষু বিশেষজ্ঞের সংখ্যা ছিল ১৫ জন। এই গবেষণাটি ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ অফথালমোলজিতে ২৯শে অক্টোবর প্রকাশিত হয়েছিল। গবেষণা অনুসারে, প্রতি মিলিয়ন জনসংখ্যার জন্য বিছানার সংখ্যা ছিল ৭৪টি। ২৪ ঘন্টা জরুরি বিভাগে চক্ষু প্রতিষ্ঠানের অনুপাত ছিল ৪০.৫ শতাংশ এবং ৮৭.০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে চক্ষু অপারেশন থিয়েটার (ওটি) উপস্থিত ছিল।
বেসরকারি জায়গায় ছানি, গ্লুকোমা, স্কুইন্ট, ইউভিয়া এবং ভিট্রিও-রেটিনা, কেরাটোপ্লাস্টি, অকুলোপ্লাস্টি এবং নিউরো-অপথ্যালমোলজির উপবিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের অনুপাত এনজিও সেক্টর এবং সরকারি সেক্টরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।
এই গবেষণায় জোর দেওয়া হয়েছে যে, ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও তথ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী মানবসম্পদ উপাদান দিয়ে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। যাতে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় প্রয়োজনীয় ভালোমানের স্বাস্থ্যকর্মীর প্রাপ্যতা নিশ্চিতের পরিকল্পনা করার জন্য প্রমাণের ভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications