পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মাঝেও স্বস্তি! তেলের দাম রেকর্ডে, তবু পেট্রল-ডিজেলের দামে বাড়তি চাপ নেই ভারতে
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। ভারতের আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের গড় দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১৫৬ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়েছে। তবে, সরকার এবং তেল সংস্থাগুলি জানিয়েছে যে, দেশে সাধারণ পেট্রল ও ডিজেলের খুচরো দাম এখনই বাড়ানো হচ্ছে না।

সরকারি তথ্য অনুসারে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের আমদানি করা তেলের ব্যারেল প্রতি গড় দাম ছিল ৭১.১৭ ডলার। তারপর ৯ মার্চ সেই দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, ১৬ মার্চ তা ১৪০ ডলার পেরিয়ে যায় এবং ১৯ মার্চ তা বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১৫৬.২৯ ডলারে।
তেলের দাম বেড়ে গেলেও সরকারি এবং বেসরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলি পেট্রল ও ডিজেলের দাম এখনও পর্যন্ত বাড়ায়নি। কারণ দেশের রিফাইনারিগুলিতে পর্যাপ্ত কাঁচা তেলের মজুত রয়েছে এবং সমত রিফাইনারি উচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে। সরকার জানিয়েছে যে, দেশে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক ভাবেই রয়েছে এবং কোথাও ঘাটতির খবর আপাতত নেই।
সরকারের দাবি যে, ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে তেল আমদানি করার কৌশলের কারণেই এখনও পর্যন্ত ভারতে জ্বালানির সরবরাহে কোনও সমস্যা তৈরি হয়নি। কিছু প্রতিবেশী দেশে যেখানে জ্বালানি ঘাটতি দেখা গিয়েছে, সেখানে ভারতে সেইরকম পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।
তবে সরকার জানিয়েছে যে, রান্নার গ্যাস অথবা এলপিজি সরবরাহ নিয়ে কিছুটা চাপ রয়েছে। কারণ কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে হামলা হওয়ার পর ভারতের প্রায় ৪৭ শতাংশ এলপিজি আমদানিতে প্রভাব পড়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, নরওয়ে, কানাডা ও আলজেরিয়ার মতো দেশ থেকেও গ্যাস আনা হচ্ছে।
এরই মধ্যে আবার আমেরিকা থেকে এলপিজি বোঝাই একটি জাহাজ নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দরে পৌঁছে গিয়েছে। সেইসঙ্গে রাশিয়া থেকে আসা একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজকেও ভারতের দিকে ঘুরিয়ে আনা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে যে, সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে জ্বালানি আগে থেকে মজুত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ দেশে পেট্রল এবং ডিজেলের যথেষ্ট পরিমানে মজুত রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications