পুলওয়ামা হামলা কাণ্ডে যেভাবে জট ছাড়াল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, একনজরে তদন্তের বিশদ
জম্মুতে পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার সঙ্গে জড়িত থাকায় জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রধান মাসুদ আজহার ও তার ভাই রউফ আসগারের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ১৩ হাজার ৫০০ পাতার চার্জশিট পেশ করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি। এনআইএ-র তরফে চার্জশিটে জানানো হয়েছে, জঙ্গিদের মোবাইলে থাকা ছবি, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পুলওয়ামা হামলার তদন্তে সাহায্য করেছে।

১৩ হাজার ৫০০ পাতার চার্জশিট
এই ১৩ হাজার ৫০০ পাতার চার্জশিটে পুলওয়ামা হামলার পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন, সমস্ত তথ্য পেশ করেছে এনআইএ। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, পুলওয়ামা হামলার মূল চক্রী ছিল জইশ জঙ্গি মহম্মদ উমর ফারুক। তদন্তে জানা গেছে, পাকিস্তান থেকে সামবা হয়ে জম্মুতে ২০ কেজি বিস্ফোরক এনেছিল সে।

বাণিজ্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছিল সরঞ্জাম
অন্য বিস্ফোরক যেমন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট একটি ই-বাণিজ্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছিল। এনআইএ-র চার্জশিটে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, আরডিএক্স-সহ অন্য বিস্ফোরকের ছবি পাওয়া গেছে উমর ফারুকের মোবাইল থেকে। এছাড়া তার কল রেকর্ডিং, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটও প্রমাণ হিসাবে পেশ করা হয়েছে। তাছাড়া, পুলওয়ামা হামলায় ব্যবহৃত বোমাটি যে তিন জঙ্গি তৈরি করেছে , তাদের ছবি এই প্রথমবার প্রকাশিত করা হয়।

ভিডিও ও অডিও রেকর্ডিংও হাতে পেয়েছে এনআইএ
হামলার পর মাসুদ আজহারের প্রশংসাসূচক ভিডিও ও অডিও রেকর্ডিংও হাতে পেয়েছে এনআইএ। চার্জশিটে তার উল্লেখ রয়েছে। এমনকী, হামলার পর জইস-ই-মহম্মদ টেলিগ্রাম গ্রুপে একটি পোস্ট করা হয়। যেখানে দাবি করা হয়, '১০০ জন ভারতীয় হিন্দু সেনার মৃত্যু হয়েছে।' তাছাড়া, চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, পুলওয়ামার পর জইশ জঙ্গিরা আরও একটি হামলার পরিকল্পনা করেছিল। যদিও তাদের এই ছক বানচাল করে দেয় বালাকোটে ভারতের বিমান হামলা।

মোট ১৯ জনের নাম চার্জশিটে
চার্জশিটে মাসুদ আজহার ও রউফ আসগার-সহ মোট ১৯ জনের নাম রয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় সিআরপিএফ-এর কনভয়ে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ করেছিল আদিল আহমেদ দর। এদিকে পুলওয়ামা হামলার অন্যতম চক্রী ছিল উমর ফারুখ। মার্চ মাসে তাকে এনকাউন্টারে খতম করে ভারতীয় সেনা।

কোন জঙ্গির ভূমিকা ছিল কী?
হামলার ৫০০ মিটার পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে নিয়ে এসেছিল শাকির বাশির মাগ্রে। এমনকী, আইইডি তৈরির জন্য ই-কমার্স ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে ব্যাটারি, অ্যামোনিয়াম পাউডার সংগ্রহ করাতেও এই জঙ্গির ভূমিকা ছিল। মহম্মদ ইকবাল ব়্যাদারের বিষয়ে এনআইএ জানিয়েছে, পাক সন্ত্রাসবাদীদের কাশ্মীরে নিয়ে আসার জন্য পরিবহণের ব্যবস্থা করেছিল ব়্যাদার। এরপর জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে এনআইএ।

শহিদ হয়েছিলেন ৪০ সেই হামলায়
এছাড়া মহম্মদ আব্বাস ব়্যাদার, ওয়াজুল ইসলাম-সহ আরও একাধিক সন্ত্রাসবাদীর নাম রয়েছে এনআইএ-র চার্জশিটে। উল্লেখ্য, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়কে সিআপপিএফ-এর গাড়িতে ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক ভরতি একটি স্করপিও গাড়ি ধাক্কা মারে। ওই বিস্ফোরণে শহিদ হন ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান।












Click it and Unblock the Notifications