পরবর্তী শুনানির আগে ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিমদের নিয়োগ করা হবে না, সুপ্রিম কোর্টকে জানাল কেন্দ্র
ওয়াকফ সংশোধনী আইন ২০২৫-এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ওঠা আবেদনের শুনানিতে বৃহস্পতিবার বড় সিদ্ধান্ত নিল শীর্ষ আদালত। কেন্দ্রকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ৭ দিন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
শুনানির সময়, কেন্দ্র আদালতকে আশ্বস্ত করেছে যে, মামলার পরবর্তী শুনানির দিন পর্যন্ত - কোনও অমুসলিম ব্যক্তি-কে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডে নিয়োগ করা হবে না। ওয়াকফ সম্পত্তির চরিত্র বদল বা 'ডি-নোটিফাই' করা হবে না। বিশেষ করে ওয়াকফ আইন, ১৯৯৫-এর অধীনে নিবন্ধিত কোনও সম্পত্তির ওপর এখনই হাত দেওয়া হবে না।

এই প্রতিশ্রুতিগুলিকে আদালত লিপিবদ্ধ করেছে এবং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মামলার চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত কোনও প্রশাসনিক পরিবর্তন করা যাবে না। আজ সুপ্রিম কোর্টের সেই আদেশ মেনে নিয়েছে কেন্দ্র। আদালতের যাবতীয় নির্দেশকে মান্যতা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
ভারতের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) এদিন বলেন, "ওয়াকফ সম্পত্তির চরিত্র সংরক্ষণ এবং ১৯৯৫ সালের আইনের অধীনে রেজিস্টার্ড সম্পত্তি যেন কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় - এটা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার"। তিনি কেন্দ্রকে সতর্ক করে দেন যাতে কোনও প্রকার নতুন নিয়োগ বা নির্দেশ না জারি হয় যা মামলার মূল বিষয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
ওয়াকফ সংশোধনী আইন ২০২৫ কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সাম্প্রতিক পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে ওয়াকফ বোর্ড ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার কাঠামোতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক আবেদন জমা পড়ে।
আবেদনকারীদের দাবি, এই সংশোধনীর মাধ্যমে ওয়াকফ বোর্ডের স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। সেই কারণেই মামলাটি দেশজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। মূলত, সংখ্যালঘুদের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করবে এই আইন।
সুপ্রিম কোর্ট আগামী সপ্তাহে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করবে। তার আগেই কেন্দ্রকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে স্থিতাবস্থা বজায় থাকবে।
এই রায়ের ফলে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ওয়াকফ বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তার কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলেছে সংখ্যালঘু সমাজের মধ্যে। আপাতত, সেই সম্পত্তির ওপর কোনও হস্তক্ষেপ করতে পারবে না কেন্দ্রীয় সরকার। আদালতের আপাতত তাতেই পড়েছে স্থগিতাদেশ।












Click it and Unblock the Notifications