লালকেল্লা সংলগ্ন বিস্ফোরণ কাণ্ডে আত্মঘাতী হামলাকারীর সহযোগীকে গ্রেপ্তার করল এনআইএ
লালকেল্লা সংলগ্ন বিস্ফোরণের মামলায় বড় সাফল্য পেল জাতীয় তদন্ত সংস্থা তথা এনআইএ। প্রাণহানির এই মর্মান্তিক বিস্ফোরণে ১০ জন নিহত ও প্রায় ৩২ জন আহত হন। তদন্তে দেখা গেছে, আত্মঘাতী হামলাকারীর সঙ্গে যোগসাজশ ছিল কাশ্মীরের বাসিন্দা আমির রশিদ আলির। বহু রাজ্যে ব্যাপক তল্লাশির পর দিল্লিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এন আই এর তদন্তে উঠে এসেছে যে জম্মু ও কাশ্মীরের পামপুরের সাম্বুরার বাসিন্দা আমির আত্মঘাতী হামলাকারী উমর উন নবির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পুরো গাড়ি বিস্ফোরণ হামলা করেছিল। ফরেন্সিক পরীক্ষা নিশ্চিত করেছে যে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ির চালক হিসেবে নিহত হন নবি, যিনি ফারিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেল মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।

নাবির আরেকটি গাড়িও জব্দ করেছে এন আই এ, যা থেকে আরও প্রমাণ মিলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এতদিনে তদন্তকারী দল ৭৩ জন সাক্ষীর বিবৃতি সংগ্রহ করেছে, যাঁদের মধ্যে কয়েকজন আহতও রয়েছেন।
এদিকে সমান্তরাল সন্ত্রাসদমন অভিযানে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ অত্যন্ত শিক্ষিত পেশাজীবীদের নিয়ে গড়া একটি "হোয়াইট কলার" টেরর মডেলের হদিস পেয়েছে। অভিযোগ, এই মডেলটি গত বছর থেকেই আত্মঘাতী হামলাকারী খুঁজছিল ও এর মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ড. উমর নবি।
নবিকে "চরম মাত্রায় উগ্রপন্থায় প্রভাবিত" বলে আখ্যা দিয়েছে পুলিশ। তাদের সন্দেহ ৬ ডিসেম্বরের পরিকল্পিত হামলা ও ১০ নভেম্বরের লালকেল্লা বিস্ফোরণ দুটির নেপথ্যেই ছিলেন তিনি।
এছাড়াও সহ অভিযুক্ত ড. আদিল রাথার ও ড. মুজাফ্ফর গণাইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ পৌঁছে যায় ক্বাজিগুন্ডে। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রাজনৈতিক বিজ্ঞান স্নাতক জাসির ওরফে দানিশকে। তাঁর তথ্যেই জৈশ ই মহম্মদ জেইএম ঘনিষ্ঠ বৃহত্তর নেটওয়ার্কের সন্ধান মেলে।
দানিশ জানায়, গত অক্টোবরে কুলগামের এক মসজিদে "ডক্টর মডেল" এর সঙ্গে তার প্রথম দেখা ও পরে তাকে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া বাড়ির একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে আত্মঘাতী হামলার জন্য প্ররোচিত করা হয়। আর্থিক ও ধর্মীয় দ্বিধার কারণে এ বছরের এপ্রিলে সে পিছিয়ে আসে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে ২০২১ সালে তুরস্ক সফরের সময় ড. উমর ও সহ অভিযুক্ত ড. মুজাম্মিল আহমদ গনি জৈশের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরী করেন। দেশে ফিরে তারা প্রায় ৩৬০ কেজি বিস্ফোরক মজুত করে, যার বেশিরভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে লুকোনো ছিল।
৬ ডিসেম্বরের হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে যায় যখন ড. গনিকে গ্রেপ্তার করা হয় ও মজুত বিস্ফোরক উদ্ধার হয়।
গত অক্টোবরে বানপোরা, নউগ্রামে জেইএমের পোস্টার দেখা যাওয়ার পর প্রথম সন্দেহ হয়। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে একের পর এক গ্রেপ্তার হয়, যার মধ্যে ছিলেন প্যারামেডিক ও ইমাম মাওলভি ইরফান আহমেদ, যাঁর বিরুদ্ধে এই ডাক্তারদের উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে।
ঐ মামলা RC-21/2025/NIA/DLI পুরোপুরি ভেঙে ফেলার লক্ষ্যে এনআইএ ও জে অ্যান্ড কে পুলিশ বহু রাজ্যে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications