দুই দেশের অভ্যন্তরীণ উত্তাপের মাঝেই বৈঠক সারলেন নরেন্দ্র মোদী এবং মহম্মদ ইউনূস
অবশেষে মুখোমুখি হলেন নরেন্দ্র মোদী এবং মহম্মদ ইউনূস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের মধ্যে থাইল্যান্ডে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হল এবার। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর এটি উভয় দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়োংটার্ন সিনাওয়াত্রা বিমসটেক নেতাদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করেন, যেখানে মোদী ও ইউনূস একসঙ্গে বসেন।

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে পড়ে। হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসা ও কট্টরপন্থী শক্তির উত্থান নিয়ে দিল্লির উদ্বেগ বাড়ে। সাম্প্রতিককালে চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা ও ভারতের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গত সপ্তাহে চিন সফরে গিয়ে মহম্মদ ইউনূস বেজিংকে বাংলাদেশে তার অর্থনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে "স্থলবেষ্টিত" বলে অভিহিত করেন এবং বলেন যে বাংলাদেশ "সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক" হতে পারে। ইউনূসের মন্তব্য ভারত স্বাভাবিকভাবে নেয়নি, এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
স্বাভাবিক ভাবেই বোঝা যাচ্ছে, চাপা উত্তেজনার মাঝে এদিন হয় প্রধানমন্ত্রী ও মহম্মদ ইউনূসের মধ্যে বৈঠক। এই বৈঠকের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে কারণ বাংলাদেশ আগামীতে বিমসটেক গ্রুপিংয়ের সভাপতি হতে চলেছে। ভবিষ্যতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কীভাবে এগোবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের কূটনৈতিক পদক্ষেপের উপর।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চেষ্টা হলেও, চিনের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে নতুন চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অন্তত, এই বৈঠকে কোন বিষয়গুলির ওপর মোদী বা ইউনূস জোর দেন, এখন সেটাই দেখার।












Click it and Unblock the Notifications