'ভরসা উঠে গিয়েছে, মেয়েকে ওড়িশা নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিন', মমতাকে আর্জি দুর্গাপুরের নির্যাতিতার বাবার
দুর্গাপুরের সেই অন্ধকার রাত এখনো শহরের বুককে কাঁপিয়ে তোলে। শুক্রবার রাতে ক্যাম্পাসের বাইরে ঘটে যাওয়া ঘটনায় আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ওই বেসরকারি মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীরণসাথে এই ঘটনা ঘিরে তদন্ত চলছে; ইতিমধ্যে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন তিনজন, একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে, তবুও পরিবারের ভরসা ফেরেনি।
ওই ছাত্রীর বাবা ওড়িশার বাসিন্দা তিনি সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি জানালেন, "এই জায়গার উপর থেকে ভরসা উঠে গিয়েছে। ওকে মেরেও ফেলতে পারে। তাই আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছি, যাতে মেয়েকে এখান থেকে ওড়িশায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।" আরও তিনি জানান, মেয়েটি এখনও হাঁটতে পারছে না; বিছানায় শুয়ে আছে শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি মানসিক আঘাতও স্পষ্ট।
ঘটনার বিবরণ থেকে উঠে এসেছে যে, ওই রাতে একজন সহপাঠীর সঙ্গে বাইরে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছিল ছাত্রীটি। অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে; পুলিশ মোবাইল সহ বিভিন্ন সূত্র ধরে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে ও গোটা ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রাজ্যপুলিশ ও জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরিবারের অনিশ্চয়তা কাটছে না কিছুতেই।.বিশেষত যখন নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত।

রাজনীতিও এই ঘটনায় তোলপাড়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎপরতার কথাও এসেছে; তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও পরিবারের কেন আস্থা ফিরছে না? উত্তরটি বোধহয় সহজ নয়, প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি আর প্রতিদিনের নিরাপত্তাহীনতার বাস্তবতা।
তার বাবার বক্তব্যে সেই রাতের দৃশ্য জ্বলন্তভাবে উঠে এসেছে "রাত ১০টায় ওর বন্ধু ফোন করে জানায়, আমার মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওর একটা বন্ধু ওকে খেতে নিয়ে গিয়েছিল বাইরে। কিন্তু যখন দুই তিন জন ওকে ঘিরে ধরে, তখন ওর বন্ধুটি পালিয়ে যায় ওকে ছেড়ে। রাত ৮ টা থেকে ৯টার মধ্যে ঘটনাটা ঘটেছে। এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। এত বড় ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরেও কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। কোনও ব্যবস্থাই নেই এখানে।"
ইতিমধ্যে ওই ছাত্রীর বাবা ও মা ওড়িশা থেকে এসে নিউ টাউনশিপ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পরিবার চাইছে দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা,তাদের জীবনের নিরাপত্তা ফেরানোই এখন একমাত্র আবেদন। বাবা স্পষ্ট করে বলেছেন, "ওকে এখানে রাখতে চাই না। ওকে এখানে যেকোনও সময়ে মেরে ফেলতে পারে। তাই আমরা ওকে ওড়িশায় ফিরিয়ে নিতে চাই। এখন আর কোনও ভরসা নেই।"
দুর্গাপুর কাণ্ডে সমাজের নানা স্তরে উঠছে নানা প্রশ্ন? কীভাবে রাতে ক্যাম্পাসের বাইরের অংশে একজন ছাত্রী এতটাই অসুরক্ষিত ছিল? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব, নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তবায়ন ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা এসবই এখন ফের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সঠিক তদন্ত ও স্বচ্ছভাবে দ্রুত বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবিও উঠেছে।
দুর্গাপুরের এই ঘটনা এক পরিবারকে স্বাভাবিক জীবন বা পড়াশোনার পথে ফেরত নিয়ে যেতে বাধা দিচ্ছে,তারা চান নিরাপত্তা ও যোগ্য বিচার।












Click it and Unblock the Notifications