Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

'ডিজিটাল অ্যারেস্ট' প্রতারণা ঠেকাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বহুস্তরীয় ও অতিদ্রুত পদক্ষেপেই বাজিমাত

ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল অ্যারেস্ট কেলেঙ্কারি নামে এক নতুন ধরনের সাইবার অপরাধের ঢেউ দেখা যাচ্ছে। প্রতারকেরা এক্ষেত্রে পুলিশ বা সরকারি আধিকারিকের ছদ্মবেশে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই কেলেঙ্কারির কারণে ইতিমধ্যেই আমজনতার কয়েকশো কোটি টাকা খোয়া গিয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দেশব্যাপী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

মুম্বই সাইবার পুলিশ সম্প্রতি ২০ বছর বয়সী কার্তিক চৌধুরী নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্ত এমন একটি চক্রকে সাহায্য করেছিল, যারা ৮১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার কাছ থেকে ৭.৮ কোটি টাকা প্রতারণা করেছে। প্রতারণা চক্রটি জাল বার্তা ও কলের মাধ্যমে বৃদ্ধাকে গ্রেফতারের হুমকি দিয়ে তাঁর সঞ্চিত অর্থ হাতিয়ে নেয়। অভিযুক্ত কার্তিক একজন মিডলম্যান হিসাবে কাজ করেছিল এবং বিনিময়ে কমিশন পেয়েছিল।

বেঙ্গালুরু, দিল্লি, হায়দরাবাদ এবং চেন্নাইসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একই ধরনের কেলেঙ্কারির খবর সামনে এসেছে। শুধুমাত্র ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে ডিজিটাল অ্যারেস্ট কেলেঙ্কারির কারণে ১২০.৩ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

এই প্রতারকেরা সাধারণত টার্গেটকে ফোন করে দাবি করে যে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আধার নম্বর বা ক্যুরিয়ার প্যাকেজ ফৌজদারি মামলায় জড়িত গিয়েছে। এরপর জরিমানা পরিশোধ না করলে তাৎক্ষণিক গ্রেফতারের হুমকি দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে জাল ডিজিটাল অ্যারেস্ট লেটার-ও পাঠানো হয়। এসব জানতে পেরেই সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও সরকারি সংস্থা এমন ডিজিটাল গ্রেফতারি নোটিশ জারি করে না। এক্ষেত্রে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই অপরাধ দমনে একটি বহুস্তরীয় কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (NCRP) এবং হেল্পলাইন ১৯৩০ এর মাধ্যমে দ্রুত অভিযোগ দায়েরের ব্যবস্থা। সিটিজেন ফিনান্সিয়াল সাইবার ফ্রড রিপোর্টিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CFCFRMS) সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করেছে।

দেশব্যাপী প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ৯.৪২ লক্ষেরও বেশি সিম কার্ড এবং ২.৬৩ লক্ষ আইএমইআই ব্লক করেছে যা সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। টেলিকম অপারেটররা ভারতের নম্বর নকল করে আসা আন্তর্জাতিক কল বন্ধ করার জন্য সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, মেট্রোয় ঘোষণা, প্রসার ভারতীর মাধ্যমে সম্প্রচার এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়াতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (I4C) এবং এর সাইবার ফ্রড মিটিগেশন সেন্টার ব্যাঙ্ক, টেলিকম অপারেটর এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয় সাধন করছে। পুলিশ ইউনিটগুলিকে দ্রুত তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

মুম্বইয়ের ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয় যে সাইবার অপরাধীরা তাদের কৌশল ক্রমাগত পরিবর্তন করছে। তবে সরকারি তদন্তকারী সংস্থাগুলিও দ্রুত ও স্মার্টভাবে কাজ করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ব্যাপক প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যেই ফলাফল মিলেছে।

তবে এক্ষেত্রে নাগরিকদের সবসময় মনে রাখা উচিত যে কোনও সরকারি সংস্থা ফোন বা অনলাইন নোটিসের মাধ্যমে কখনই টাকা চাইবে না। এমন কোনও প্রস্তাব সন্দেহজনক মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে ১৯৩০ হেল্পলাইন নম্বরে বা NCRP পোর্টালে রিপোর্ট করা উচিত। এই অভিযান অব্যাহত থাকায়, ভারত একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলছে যেখানে প্রতারকদের দুর্বলদের ভয় দেখিয়ে লুঠের সুযোগ কমেছে।

সাইবার সংক্রান্ত যেকোনও উদ্বেগের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এবং আপনার সুরক্ষার জন্য সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। সর্বশেষ সতর্কতা, টিপস এবং সচেতনতামূলক প্রচারের জন্য CyberDost-কে YouTube, Instagram, Facebook, X, WhatsApp এবং Dailyhunt সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অনুসরণ করুন। তথ্যের মধ্যে থাকুন, সতর্ক থাকুন এবং CyberDost এর সঙ্গে থেকে অনলাইনে সুরক্ষিত থাকুন।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+