রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সমাজসেবার জন্য স্মরণীয় থাকবেন মুকুল রায়, প্রয়াণে শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রবীণ রাজনীতিক মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ রাজ্য ও দেশের রাজনৈতিক মহল। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যমে মুকুল রায়ের সঙ্গে একটি পুরনো ছবি শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সমাজসেবামূলক উদ্যোগ তাঁকে দীর্ঘদিন স্মরণীয় করে রাখবে। শোকবার্তায় তিনি পরিবারের সদস্য ও অনুগামীদের প্রতি সমবেদনা জানান। ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাতেও পৃথক বার্তায় শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তিনি।
মুকুল রায়ের প্রয়াণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতারাও শোক প্রকাশ করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে সহ একাধিক নেতা তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সংগঠকসুলভ দক্ষতার কথা স্মরণ করেছেন।

রবিবার গভীর রাতে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘদিন কিডনি সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। এক সময় যিনি 'বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য' নামে পরিচিত ছিলেন, অসুস্থতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছিলেন।
মৃত্যুসংবাদ ছড়াতেই তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমান দলীয় নেতা কর্মী ও সমর্থকেরা। হাসপাতাল থেকে মরদেহ প্রথমে বিধানসভায় নিয়ে যাওয়া হবে, সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন অধ্যক্ষ ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা। পরে কাঁচরাপাড়ার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে তাঁর দেহ।
রাজনৈতিক জীবনে নানা উত্থান পতনের সাক্ষী ছিলেন মুকুল রায়। কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ, পরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, দীর্ঘদিন রাজ্যসভার সাংসদ থাকা থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন, সব মিলিয়ে তাঁর পথচলা ছিল ঘটনাবহুল। জাহাজ প্রতিমন্ত্রী ও পরে রেলমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন তিনি।
২০২১ সালে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন। পরবর্তীতে পুনরায় তৃণমূলে যোগ দিলেও বিধায়ক পদে ইস্তফা দেননি। সেই নিয়ে আইনি জটিলতাও তৈরি হয়, যা উচ্চ আদালত পেরিয়ে শীর্ষ আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
রাজনীতির দীর্ঘ অধ্যায় শেষে শেষ পর্যন্ত 'বিধায়ক' পরিচয় নিয়েই জীবনের ইতি টানলেন এক সময়ের কৌশলী সংগঠক। তাঁর প্রয়াণে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।












Click it and Unblock the Notifications