মধ্যপ্রদেশে ভুয়ো চিকিৎসায় মৃত্যু রোগীর, অবশেষে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত চিকিৎসক, তদন্ত শুরু NHRC-র
মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলায় একটি খ্রিস্টান মিশনারি হাসপাতালে হৃদরোগের ভুয়ো অস্ত্রোপচার করে অন্তত সাতজন রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় এক ভুয়ো চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের আসল নাম নরেন্দ্র বিক্রমাদিত্য যাদব, যিনি নিজেকে ব্রিটিশ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ "ডাঃ জন ক্যাম" বলে পরিচয় দিতেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দামোহের পুলিশ সুপার শ্রুত কীর্তি সোমবংশী সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, "অভিযুক্ত নরেন্দ্র যাদবকে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে দামোহে এনে তদন্ত শুরু হয়েছে"।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যাদব জানুয়ারি মাসে ছদ্মনামে মিশন হাসপাতালে কাজ শুরু করেন। দেড় মাসের মধ্যে সাতজন রোগীর মৃত্যু ঘটে তাঁর অস্ত্রোপচারের পর। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং চিকিৎসায় অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে জেলা প্রশাসন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)।
জেলা শিশু কল্যাণ কমিটির সভাপতি এবং আইনজীবী দীপক তিওয়ারি জানান, যাদব বহু অস্ত্রোপচার করেছেন এবং প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশিও হতে পারে। তাঁর কথায়, "আমরা অভিযোগ পাই এক রোগীর আত্মীয়ের কাছ থেকে। তারা জানায় যে ডাক্তারটির কোনও বৈধ কাগজ নেই"।
৭ এপ্রিল প্রিয়াঙ্ক কানুনগোর নেতৃত্বে NHRC-এর একটি দল দামোহ পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। প্রিয়াঙ্কা জানান, "আমরা জানতে পেরেছি, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে বিদেশি ডাক্তার পরিচয় দিয়ে অস্ত্রোপচার করছিলেন। এই হাসপাতাল আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সাথেও যুক্ত, এবং সরকারের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছে। বিষয়টি গুরুতর, তদন্ত চলছে"।
এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে বড় প্রশ্ন। কীভাবে একজন ভুয়ো ডাক্তার, কোনও প্রমাণপত্র ছাড়াই রাষ্ট্রীয় প্রকল্পে রোগীদের অস্ত্রোপচার করলেন, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ রাজ্যবাসী। এই ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে বেসরকারি ও মিশনারি হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ ও যাচাই ব্যবস্থাকে জোরদার করার দাবি উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আরও তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহের পর হাসপাতালের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications