Holi 2024: জানেন কি আবির বা গুলাল নয় ভস্মদিয়ে হোলি খেলা হয় এখানে, জেনে নিন তার কারণ
হোলি বা দোল বা রঙের উৎসব। এই একটি উৎসব গোটা দেশে উদযাপিত হয়ে থাকে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই হোলির উৎসবে মাতেন। হোলি মানেই সবার আগে আমাদের মনে আসে বৃন্দাবনের কথা। কারণ ভারতীয় পূরাণে শ্রীকৃষ্ণের বর্ণাঢ্যে হোলি খেলার কথা বলা হয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধা এবং বৃন্দাবনের গোপীদের সঙ্গে যে হোলিখেলায় মেতে থাকতেন তার বর্ণনা থেকেই মূলত বৈষ্ণব ধাম গুলিতেই হোলি খেলার উৎসব বেশি হয়। বৃন্দাবন-মথুরায় প্রায় ৭ দিন ধরে চলে হোলি খেলা। কিন্তু শৈব তীর্থগুলিতে তেমন ভাবে হোলি খেলার চল নেই।

কিন্তু জানেন কি বারাণসীতে চিতাভস্ম নিয়ে হোলি খেলা হয়। সেই হোলি খেলার কথা অনেকেই জানেন না। তবে সেই ভস্ম হোলি বসন্তোপূর্ণিমার দিনে খেলা হয় না। খেলা হয় ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর পরের দিন। বারাণসীর মণিকর্ণিকা ঘাটে সেদিন শিবভক্ত সন্ন্যাসী এবং সাধুরা হাজির হন।
শবদাহের ভস্ম নিয়ে একে অপরের গায়ে মাখিয়ে হেলি খেলেন তাঁরা। সেই চিতাভস্ম আকাশে উড়িয়ে ঈশ্বরকেও নিবেদন করেন তাঁরা। এই ভস্মহোলি দেখতে অনেকেই হাজির হন সেদিন মণিকর্ণিকা ঘাটে। সে এক অমোঘ দৃশ্য। ভস্মে চারিদিক ধুসর হয়ে যায়। কিন্তু এবার অনেকেই ভাববেন চিতাভস্ম নিয়ে হোলি খেলা সেটা আবার কিরকম।
এর নেপথ্যে রয়েছে একটি কাহিনী। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী ভগবান শিব নাকি বিয়ের পর এই বারাণসীর ঘাটে এসে চিতাভস্ম নিয়ে হোলি খেলেছিলেন। কথিত আছে বিয়ের পর শিব প্রথমবার পার্বতীকে নিয়ে বারাণসী এসেছিলেন। সেসময় রঙ্গভরী একাদশী পালিত হত। সেই তিথিতেই শিব-পার্বতী একে অপরকে আবির দিয়ে হোলি খেলেছিলেন। পরের দিন তাঁর অনুরাগী অর্থাৎ ভুত-প্রেত-যক্ষ-পিশাচরা তাঁকে হোলি খেলতে বলেন। কিন্তু তাঁরা যে জীবনের সব রং থেকে দূরে থাকেন সেটা জানতেন শিব। সেকারণে শশ্মানের চিতাভস্ম নিয়ে তাঁদের সঙ্গে হোলি খেলেছিলেন।
বিশ্বাস করা হয় যে মশান হোলি বা চিতাভস্ম নিয়ে হোলি খেলা মৃত্যুর সমান। কারণ যাঁরা এটা করেন তাঁরা সব মোহ-মায়া ত্যাগ করে ফেলেছেন। তাঁর কাছে জীবনের কোনও মোহ নেই। মৃত্যু ভয়কে পিছনে ফেলে দিয়েছেন তাঁরা। আবার আরও একটি কাহিনী প্রচলিত আছে। শিব যমরাজকে পরাজিত করে মৃত্যুকে জয় করেছিলেন। সেকারণে ভস্ম দিয়ে হোলি খেলেছিলেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications