এনআরসি বাস্তবায়নে সক্রিয় মণিপুর, গঠিত হল রাজ্য জনসংখ্যা কমিশন
মণিপুরের বিধানসভায় এনআরসি বাস্তবায়নের জন্য জনসংখ্যা কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব পাস হয়েছে। এদিন রাজ্যে বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে এই প্রস্তাব পাস হয়। মণিপুরে হঠাৎ করে জনসংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। সেই বিষয়ে এদিন উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্য সরকার। মণিপুরে মায়নামারের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, অনুপ্রবেশের জেরে মণিপুরে জনসংখ্যার এই বৃদ্ধি।

এনআরসি বাস্তবায়নের উদ্যোগ
শুক্রবার মণিপুরের বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের শেষদিনে জনতা দল ইউনাইটেডের বিধায়ক জয়কিসান সিং প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করেন। সর্বসম্মতি ক্রমেই তা বিধানসভায় পাস হয়ে যায়। মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, বিধানসভায় এনআরসি প্রয়োগ ও জনসংখ্যা কমিশন গঠনের প্রস্তাব পাস হয়েছে। রাজ্যে হঠাৎ করে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মণিপুরের একাধিক বেসরকারি সংগঠন এনআরসির দাবি করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন। মনে করা হচ্ছে, মণিপুরে অনুপ্রবেশের সংখ্যা ক্রমেই বৃ্দ্ধি পাচ্ছে, সেই কারণেই রাজ্যের সংখ্যা এইভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মণিপুরে অস্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃ্দ্ধি
জনতা দল ইউনাইটেডের বিধায়ক জয়কিষান সিং বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মণিপুরের পার্বত্য জেলাগুলোতে জনসংখ্যা ১৫৩.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু ২০০১ সাল থেকে ২০১১ সালের মধ্যে মণিপুরের পার্বত্য অঞ্চলের জনসংখ্যা ২৫০.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা যথেষ্ট সন্দেহের কারণ। অন্যদিকে, মণিপুরের উপকূল এলাকায় জনসংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ১৯৭১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মণিপুরের উপত্যকার জেলাগুলোতে ৯৪.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যা ১২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মণিপুরে এনআরসি-র দাবি
ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল এবং মণিপুর অখণ্ডতা সমন্বয়কারী কমিটি সহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি নাগরিক কমিটি এনআরসির দাবি তুলেছে। সংস্থাগুলো দাবি করেছে, ব্যাপক পরিমাণে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে এনআরসি বাস্তবায়নের প্রয়োজন। ইতিমধ্যে মণিপুরের নাগরিক সংস্থাগুলো রাজ্যে ব্যাপকহারে বেড়ে যাওয়া জনসংখ্যার পরীক্ষার জন্য ভারত সরকাররে কাছে আবেদন করেছে। বেশ কিছু প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। নাগরিক সংস্থাগুলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেছে।

মণিপুরে অনুপ্রবেশকারী
মণিপুরে অনুপ্রবেশের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ২০০১১ সালের পর মণিপুরে জনসংখ্যা আরও বেড়ে গিয়েছে। ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মায়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান হয়। সেনাবাহিনীর অত্যাচারে বাধ্য হয়ে অনেক মায়ানমারের নাগরিক সীমান্ত পেরিয়ে মণিপুর ও মিজোরামে আশ্রয় নিয়েছেন। ইতিমধ্যে মায়ানমার থেকে মিজোরামে আসা অনুপ্রবেশকারীদের জন্য একাধিক ক্যাম্প গঠন করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications