আর্থিক অনটন, ছিল না বিমান ভাড়া! ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলকে ইংল্যান্ড সফরের খরচ জুগিয়েছিলেন এই বলিউড অভিনেত্রী
রবিবার, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপ ২০২৫-এ ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয়ের পর সমস্ত ভারতবাসী আনন্দ ও উল্লাসে মেতে উঠেছেন। প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের হাতে উঠতেই গর্বে ভরে উঠেছে ভারতবাসীর বুক। অভিনন্দন বার্তা পুরো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং এরকম চূড়ান্ত জয়ের এই মুহূর্তটি এখন মূল আলোচনায় পরিণত হয়েছে। তবে, এত আনন্দ উল্লাস উদযাপন এখন হলেও, অনেক আগে ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল টিকে অনেক লড়াই করতে হয়েছিল। তখন অর্থও খুব সামান্য ছিল এবং দর্শকদের সংখ্যা ছিল অনেক কম। খাওয়া-দাওয়া, যাতায়াত, এমনকি বিদেশ সফরের খরচ চালানোর মতো অর্থও ছিলোনা একসময়। এই হতাশার সময়েই ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলের সাহায্যে এসেছিলেন একজন বলিউড অভিনেত্রী। যাঁর নাম মন্দিরা বেদী। বলিউড অভিনেত্রী, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব এবং ক্রিকেট সম্প্রচারের প্রথম মহিলা মুখ হিসাবে পরিচিত মন্দিরা বেদী। ৩০ বছর বয়সী ওই অভিনেত্রীর অবদান হয়ত এখনও অনেকেই জানেন না।

২০০০ সালের শুরুর দিকে বলিউড এবং টেলিভিশন অভিনেত্রী হিসেবে মন্দিরা বেদী তাঁর নাম সুপ্রতিষ্ঠিত করে তুলেছিলেন। ওই বলিউড অভিনেত্রী ২০০৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে নিজের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের পাশে এসে দাঁড়ান। খেলাধুলার প্রতি তার আগ্রহ এবং ক্যামেরার সামনে তার অসাধারণ প্রতিভার মাধ্যমে মন্দিরা বেদি ক্রিকেট সম্প্রচারের প্রথম মহিলা মুখ হয়ে ওঠেন। স্পনসর খোঁজা থেকে শুরু করে নিজের উপার্জনের টাকায় তিনি ঝুলন গোস্বামী ও মিতালি রাজদের বিদেশ সফরের সমস্ত খরচও জুগিয়েছিলেন।
ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল বিসিসিআই-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে তাদের জন্য লাইমলাইট ছিল অনেক দূরে। তখন খেলোয়াড়দের স্পনসরশিপ খুঁজে পেতে অনেক সমস্যা হতো। যে কারণে আন্তর্জাতিকভাবে খেলা তাদের জন্য অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছিল। কখনও কখনও তাদের নিজেদেরই পকেট থেকে ম্যাচ খেলার জন্য টাকা খরচ করতে হত। এই সময়েই মন্দিরা বেদী একটি হীরা ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের জন্য স্বাক্ষর করেছিলেন এবং সেই বিজ্ঞাপন থেকে তিনি তাঁর পারিশ্রমিক ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলকে দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যার ফলে ইংল্যান্ড সফরের জন্য ভারতীয় মহিলা দলের খেলোয়াড়রা বিমান ভ্রমণে সাহায্য পেয়েছিল।
তৎকালীন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (WCAI)-এর প্রাক্তন সচিব নূতন গাভাস্কার বলেন, "তখন কোনও রকম অর্থ ছিল না। মন্দিরা বেদী এক হীরা ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের শুটিং শেষে তাঁর পারিশ্রমিকের পুরো টাকাটা আমাদের হাতে তুলে দেন। সেই টাকাতেই ইংল্যান্ড সফরের জন্য বিমানের টিকিট কাটা সম্ভব হয়েছিল। মন্দিরা বেদী দান হিসেবে এই অর্থ দেননি, বরং মহিলা ক্রিকেটকে টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ের অংশ হিসেবে এই অর্থ দিয়েছিলেন।"
প্রাক্তন ক্রিকেটার ও তৎকালীন ডব্লিউসিএআই সেক্রেটারি শুভাঙ্গী কুলকার্নি বলেন, "ওই সময় কোনও স্পনসরশিপ পাওয়া ছিল স্বপ্নের মতো। মন্দিরা যখন থেকে এই বিষয়টি নিজের হাতে নেন, তখন থেকেই কর্পোরেট সংস্থাগুলি আগ্রহ দেখাতে শুরু করে। মন্দিরা বেদী নিজে ম্যাচ দেখতে এসে বলেছিলেন, 'আমি পুরুষ ক্রিকেটের জন্য অনেক কিছু করেছি আর এখন মেয়েদের জন্যও অনেক কিছু করব।' তারপর থেকেই পরিবর্তনটা শুরু হয়েছিল।"
এতদিন পর যখন ভারতের মহিলা ক্রিকেটাররা অবশেষে ২০২৫ সালের বিশ্বকাপ জিতে সেই ট্রফি ঘরে তোলেন তখন পুরনো স্মৃতিতে ফিরে গিয়ে মন্দিরা বেদী সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, "কী দুর্ধর্ষ খেলা, কী লড়াই, কী অসাধারণ জয়! টিম ইন্ডিয়া, তোমরাই এই সাফল্যের যোগ্য দাবিদার। অনেক দূর পৌঁছে গেছো তোমরা, অভিনন্দন!"












Click it and Unblock the Notifications