মমতা-কেজরিওয়ালরা চান 'হাত' দুর্বলই থাক! ২০২৪-এর নির্বাচনে কংগ্রেসকে ২০০ আসনের পিছনের গল্প সামনে

কর্নাটক বিধানসভার নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরে একদিকে যখন কংগ্রেস ২০২৪-এর লক্ষ্যে তৈরি হচ্ছে, ঠিক তেমনই তৈরি হচ্ছেন মমতা-কেজরিওয়াল, অখিলেশরাও। বিরোধীদের এই আঞ্চলিক জোটের দাবি কংগ্রেস ২০০ টি আসনে লড়াই করুক, যেখানে বিজেপির সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আঞ্চলিক দলগুলি কখনই চায় না কংগ্রেস শক্তিশালী হোক। কেননা কংগ্রেসের শক্তি কমতেই আঞ্তলিক দলগুলি শক্তিশালী হয়েছে। সেক্ষেত্রে কংগ্রেসের শক্তিবৃদ্ধি মানে আঞ্চলিক দলগুলির শক্তি ক্ষয়। তবে ভোটের অঙ্ক এতটা সহজ না হলেও, এই আঞ্চলিক দলগুলির উদ্দেশ্য মোটেও ভাল নয়।

মমতা-কেজরিওয়ালরা চান কংগ্রেস দুর্বলই থাক

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেস যাদব, কেজরিওয়াল কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়েই ২০২৪-এর সাধারণ নির্বাচনে লড়াই করতে চান। তবে তাদের শর্ত রয়েছে। যেমন কর্নাটক নির্বাচনে কংগ্রেসের জয়ের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, কোনও প্রদেশে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে শক্তিশালী দলকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে কংগ্রেস যে প্রদেশে শক্তিশালী সেখানে তারাই লড়াই করুক।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, কংগ্রেস ২০০ টি আসনে শক্তিশালী। কিছু ভাল চাইলে কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, এই প্রবচনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেছেন, বাংলা ছাড়া দিল্লি, তামিলনাড়ু, ঝাড়খণ্ডস, পঞ্জাব, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও ওড়িশায় আঞ্চলিক দলগুলি শক্তিশালী। এইসব রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলিকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির সরাসরি লড়াইয়ে যে ২০০ টি আসনের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলির বেশির ভাগই রয়েছে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে। এর মধ্যে কর্নাটক (২৮), মধ্যপ্রদেশ (২৯), ছত্তিশগড় (১১), রাজস্থান (২৫), গুজরাত (২৬), হরিয়ানা (১১), হিমাচল (৪), উত্তরাখণ্ড (৫), গোয়া (২), চণ্ডীগড় (১), অসম (১৪), অরুণাচল (২), মণিপুর (২), আন্দামান(১), লাদাখ (১)।

মমতা-কেজরিওয়ালরা চান কংগ্রেস দুর্বলই থাক

এইসব রাজ্যগুলিতে এমন ১৬২ টি লোকসভা আসন রয়েছে, যেখানে কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে থাকে। এছাড়াও ৩৮ টি এমন আসন রয়েছে, যেগুলি আঞ্চলিক দলগুলি যে রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে, সেই রাজ্যের।

তালিকায় রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ ও কেরলের ৫ টি আসন, তেলেঙ্গানার ১৭ টি আসনের মধ্যে ৬ টি, পঞ্জাবের ১৩ টি আসনের মধ্যে ৪ টি, মহারাষ্ট্রের ৪৮ টি আসনের মধ্যে ১৪ টি, উত্তর প্রদেশের ৮০ টি আসনের মধ্যে ৫ টি, বিহারের ৪০ টির মধ্যে ৪ টি।

২০১৪ ও ২০১৯-এর ভোটের ফলাফল দেখলেই বোঝা যাবেই এই ২০০ টি আসনে কংগ্রেস কার্যত লড়াই করতে পারেনি। ২০১৪-তে ২০০ টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছিল ১৬৮ টি এবং কংগ্রেস ২৫ টি। আর ২০১৯-এর নির্বাচনে ২০০ টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছিল ১৭৮ টি আর কংগ্রেস পেয়েছিল ১৬ টি আসন। দুটি ক্ষেত্রে অন্যরা পেয়েছিল যথাক্রনে ৭ ও ৬ টি আসন।

এই ফলাফল সামনে রেখে বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, আঞ্চলিকদলগুলি কখনই চায় না কংগ্রেস শক্তিশালী হোক। কারণ কংগ্রেস শক্তিশালী হলে তাদের ভেঙেই হবে। আর সেই একই কারণে কংগ্রেসও আঞ্চলিক দলগুলির ফাঁদে পা দিতে রাজি নয়। যে কারণে তারা বলেছে, তারাই বিরোধী ঐক্য করতে চায় এবং নেতৃত্বে তারাই থাকতে চায়।

মমতা-কেজরিওয়ালরা চান কংগ্রেস দুর্বলই থাক

হিমাচল প্রদেশ ও কর্নাটক জয়ের পরে কংগ্রেসের পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে এই বছরের মধ্যে যেসব রাজ্যগুলিতে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, সেইসব রাজ্যে ফল ভাল করতে চায়। শুধুমাত্র কর্নাটকের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, রাজ্যের ২৯ টি লোকসভা আসনের মধ্যে বিজেপি মাত্র ৪ টিতে এগিয়ে রয়েছে।

কংগ্রেস অন্ত কুড়িটি রাজ্যে একাই লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। তার মধ্যে রয়েছে অসম, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটক, গুজরাত, রাজস্থান, পঞ্জাব, দিল্লি, হরিয়ানা। এইসব রাজ্যে লোকসভার আসন সংখ্যা ২০০-র আশপাশে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তর প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, ঝাড়খণ্ড ও মরারাষ্ট্রে জোট করেই লড়াইয়ের সুযোগ রয়েছে।

২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে ২০২৩-এর মধ্যে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড় ও তেলেঙ্গানায় বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। এইসব রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন থেকে সেখানকার চিত্র খানিকটা পরিষ্কার হতে পারে। তারপরেই কংগ্রেস ও আঞ্চলিক দলগুলির দরকষাকষি শুরু হতে পারে। তবে বিধানসভা নির্বাচনের ফলই যে লোকসভায় উঠে আসবে, তেমন ভেবে নিলে ভুল হবে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+